কিশোরগঞ্জে জামায়াতের রুকন সম্মেলন, গোপন ব্যালটে আমির নির্বাচন
কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আগামী দুই বছরের জন্য জেলা আমির নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট দিয়েছেন সংগঠনটির আট শতাধিক পুরুষ ও নারী রুকন (সদস্য)। তবে ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে পরবর্তী সময়ে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় কিশোরগঞ্জের নেহাল গ্রিন পার্কের মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক মো. রমজান আলী। সম্মেলন পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা অধ্যক্ষ মো. তৈয়বুজ্জামান ও অধ্যাপক আব্দুস সালাম, জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুল হক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওয়ারী থানা জামায়াতের আমির মাহবুবুর রহমান মাহফুজ। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও সাংগঠনিক থানা শাখার দায়িত্বশীল নেতারা সম্মেলনে অংশ নেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর আগে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. রমজান আলী। পরে দলীয় নিয়ম অনুযায়ী তিনি নির্বাচন পরিচালকদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন এবং সভাপতির আসন ছেড়ে সাধারণ রুকনদের সারিতে বসেন। এরপর আট শতাধিক পুরুষ ও নারী রুকন গোপন ব্যালটে জেলা আমির নির্বাচনে ভোট দেন। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কাজী সাইফুল্লাহ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম ও মাওলানা এস এম ইউসূফ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছরে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদে বিশ্বাস করে না—এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও এরশাদের শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো জোট হয়নি; বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দল দুটি একসঙ্গে আন্দোলন করেছিল।
তিনি আরও বলেন, জনগণ প্রতারণার জবাব দেবে। জামায়াতে ইসলামী সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপির চেয়ে ‘৫০ গুণ ভালোভাবে’ দেশ পরিচালনা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন দলটির এই কেন্দ্রীয় নেতা।









Disqus comments are not configured yet.