৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে— ভিপি সোহেলের পথসভায় জনতার উচ্ছ্বাস
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারের সমরূপ মনে করা হচ্ছে। এই দফাসমূহকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রামপুর বাজারে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এক বিশাল পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুরের জনমানুষের নেতা, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, রাজপথের লড়াকু সৈনিক খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল)।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রের প্রায় সব অঙ্গ ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ১২ জুলাই রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক ঐতিহাসিক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৩ জুলাই দলটি ঘোষণা করে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনা, যা দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচার কাঠামো সংস্কারের মানচিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় বিতর্কিত ‘পুতুল নির্বাচন’। এর কয়েক মাস পর ছাত্রদের কোটা আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে আন্দোলন ১ দফায় ‘সরকার পতনের’ দাবিতে রূপ নেয়। অবশেষে ৫ আগস্ট ২০২৪, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।
দেশের সংকট মুহূর্তে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এক বছরেরও বেশি সময় পর, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে, তখনও বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ঘোষণার আড়াই বছর পর তা দেশের পুনর্গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হোসেনপুর উপজেলাধীন রামপুর বাজারে অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির এক পথসভা। ভিপি সোহেলের উপস্থিতির খবরে জনতার ঢল নামে। দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বাসে তাকে ঘিরে ধরে। সভাস্থলে লিফলেট বিতরণ করা হয়, যেখানে ৩১ দফার প্রতিটি মূল দিক তুলে ধরা হয়— রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভিপি সোহেল বলেন—
“যেই বাংলাদেশে তারেক রহমানের মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই বাংলাদেশে হাসিনার অত্যাচারের কারণে তিনি থাকতে পারেননি। সেই মানুষটিকে আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই তোমরা যত স্লোগান আমার নামে দাও, তার চেয়ে বেশি স্লোগান তার নামেই দাও।”
তার বক্তব্য শেষে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা স্লোগানে ফেটে পড়ে—
“তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে।”
মুহূর্তেই রামপুর বাজার এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
পথসভায় বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহীম মোল্লা বলেন—
“কিশোরগঞ্জ কাকে চায়? হোসেনপুর কাকে চায়?
খালেদা জিয়া কাকে চায়? তারেক রহমান কাকে চায়?
ধানের শীষে কাকে চাই? রাজপথে ভুলি নাই!
সুখে দুখে কাকে পাই, সংগ্রামে কাকে পাই,
কারাগারে কাকে পাই, সুসময়েও তাকেই চাই!”
তার স্লোগানের জবাবে জনতা একসঙ্গে গর্জে ওঠে—
“সোহেল ভাই! সোহেল ভাই!”
স্লোগান, করতালি ও সমর্থনের জোয়ারে পথসভাটি একপর্যায়ে মহাসমাবেশের রূপ নেয়।
কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও ভিপি সোহেলের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, “কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুরের মানুষ তার লড়াকু নেতৃত্বে আশার আলো দেখে।”
সভা শেষে কর্মীরা লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রাখেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের ভাষ্যে—
“রাষ্ট্র সংস্কারের এই ৩১ দফাই দেশের পুনর্গঠনের রূপরেখা—
এটি এখন কেবল একটি ঘোষণা নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারের প্রতীক।”




