মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২

৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে— ভিপি সোহেলের পথসভায় জনতার উচ্ছ্বাস

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে— ভিপি সোহেলের পথসভায় জনতার উচ্ছ্বাস

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারের সমরূপ মনে করা হচ্ছে। এই দফাসমূহকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রামপুর বাজারে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এক বিশাল পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুরের জনমানুষের নেতা, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, রাজপথের লড়াকু সৈনিক খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল)

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রের প্রায় সব অঙ্গ ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ১২ জুলাই রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক ঐতিহাসিক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৩ জুলাই দলটি ঘোষণা করে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনা, যা দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচার কাঠামো সংস্কারের মানচিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় বিতর্কিত ‘পুতুল নির্বাচন’। এর কয়েক মাস পর ছাত্রদের কোটা আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে আন্দোলন ১ দফায় ‘সরকার পতনের’ দাবিতে রূপ নেয়। অবশেষে ৫ আগস্ট ২০২৪, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।

দেশের সংকট মুহূর্তে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এক বছরেরও বেশি সময় পর, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে, তখনও বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ঘোষণার আড়াই বছর পর তা দেশের পুনর্গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হোসেনপুর উপজেলাধীন রামপুর বাজারে অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির এক পথসভা। ভিপি সোহেলের উপস্থিতির খবরে জনতার ঢল নামে। দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বাসে তাকে ঘিরে ধরে। সভাস্থলে লিফলেট বিতরণ করা হয়, যেখানে ৩১ দফার প্রতিটি মূল দিক তুলে ধরা হয়— রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভিপি সোহেল বলেন—

“যেই বাংলাদেশে তারেক রহমানের মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই বাংলাদেশে হাসিনার অত্যাচারের কারণে তিনি থাকতে পারেননি। সেই মানুষটিকে আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই তোমরা যত স্লোগান আমার নামে দাও, তার চেয়ে বেশি স্লোগান তার নামেই দাও।”

তার বক্তব্য শেষে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা স্লোগানে ফেটে পড়ে—
“তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে।”
মুহূর্তেই রামপুর বাজার এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

পথসভায় বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহীম মোল্লা বলেন—

“কিশোরগঞ্জ কাকে চায়? হোসেনপুর কাকে চায়?
খালেদা জিয়া কাকে চায়? তারেক রহমান কাকে চায়?
ধানের শীষে কাকে চাই? রাজপথে ভুলি নাই!
সুখে দুখে কাকে পাই, সংগ্রামে কাকে পাই,
কারাগারে কাকে পাই, সুসময়েও তাকেই চাই!”

তার স্লোগানের জবাবে জনতা একসঙ্গে গর্জে ওঠে—
“সোহেল ভাই! সোহেল ভাই!”

স্লোগান, করতালি ও সমর্থনের জোয়ারে পথসভাটি একপর্যায়ে মহাসমাবেশের রূপ নেয়।

কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও ভিপি সোহেলের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, “কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুরের মানুষ তার লড়াকু নেতৃত্বে আশার আলো দেখে।”

সভা শেষে কর্মীরা লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রাখেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের ভাষ্যে—

“রাষ্ট্র সংস্কারের এই ৩১ দফাই দেশের পুনর্গঠনের রূপরেখা—
এটি এখন কেবল একটি ঘোষণা নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারের প্রতীক।”

চৌদ্দশত ইউনিয়নে বিএনপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
চৌদ্দশত ইউনিয়নে বিএনপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মতলবপুর গ্রামে সোমবার (২ মার্চ) ব্যবসায়ী খোকনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন, চৌদ্দশত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হাজী নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. জুয়েল মিয়া। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চন্দ্রাবতী’-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি সোমবার (২ মার্চ) ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদ ‘চন্দ্রাবতী’র সভাপতি মিশকাতুল আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আলম সাকির স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রে নতুন কমিটি অনুমোদিত হয়।

ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াত তনয় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চিন্ময় রায়। সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন হামীম আহমেদ, সানজিদা ঐশী, তাসনিয়া অর্ণা ও কানিজ ফাতেমা সেতু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আরমান ইমন, হৃদয় রায়, মেহরাব হোসেন মৃদুল, রিফাইয়াত সুলতানা জেমি, সাদিয়া আক্তার উর্মি ও আতাহারুল ইসলাম মাহী। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাজিদ ইউসুফ।

সংগঠন সূত্র জানায়, ‘চন্দ্রাবতী’ দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম, ইফতার মাহফিল, BBQ, শিক্ষা বৃত্তি, সেমিনার ও শিক্ষাসফর আয়োজনের মাধ্যমে সংযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে আসছে। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উভয়ই গুরুদয়াল কলেজ ও আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

নবনির্বাচিত সভাপতি সাখাওয়াত তনয় বলেন, “দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি আমানত। সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই আমানত রক্ষায় সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশী। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করব। সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সক্রিয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই।”

সাধারণ সম্পাদক চিন্ময় রায় বলেন, “সংগঠনের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে নতুন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা এবং কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও কার্যকর করা হবে।”

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘চন্দ্রাবতী’ আগামী এক বছরের জন্য গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কুলিয়ারচর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহত শিশু আশরাফুল দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে খাওয়ানোর পর ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই ঝাড়ু দিতে যান। কিছু সময় পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে ঘরে এসে জানায়, দোলনায় তার ছোট ভাই নেই। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘর, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা খুঁজেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।

এক প্রতিবেশী দাবি করেন, বোরকা পরিহিত তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের কোলে একটি শিশু ছিল। এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শিশু চুরির গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও দীর্ঘ ২৬ দিনেও শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

শিশুটির দাদি অভিযোগ করেন, তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী রুপা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রুপা আক্তার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পারিবারিক বিরোধ, সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।