বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে— ভিপি সোহেলের পথসভায় জনতার উচ্ছ্বাস

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে— ভিপি সোহেলের পথসভায় জনতার উচ্ছ্বাস

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারের সমরূপ মনে করা হচ্ছে। এই দফাসমূহকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রামপুর বাজারে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এক বিশাল পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুরের জনমানুষের নেতা, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, রাজপথের লড়াকু সৈনিক খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল)

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রের প্রায় সব অঙ্গ ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ১২ জুলাই রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক ঐতিহাসিক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৩ জুলাই দলটি ঘোষণা করে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনা, যা দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচার কাঠামো সংস্কারের মানচিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় বিতর্কিত ‘পুতুল নির্বাচন’। এর কয়েক মাস পর ছাত্রদের কোটা আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে আন্দোলন ১ দফায় ‘সরকার পতনের’ দাবিতে রূপ নেয়। অবশেষে ৫ আগস্ট ২০২৪, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।

দেশের সংকট মুহূর্তে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এক বছরেরও বেশি সময় পর, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে, তখনও বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ঘোষণার আড়াই বছর পর তা দেশের পুনর্গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হোসেনপুর উপজেলাধীন রামপুর বাজারে অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির এক পথসভা। ভিপি সোহেলের উপস্থিতির খবরে জনতার ঢল নামে। দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বাসে তাকে ঘিরে ধরে। সভাস্থলে লিফলেট বিতরণ করা হয়, যেখানে ৩১ দফার প্রতিটি মূল দিক তুলে ধরা হয়— রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভিপি সোহেল বলেন—

“যেই বাংলাদেশে তারেক রহমানের মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই বাংলাদেশে হাসিনার অত্যাচারের কারণে তিনি থাকতে পারেননি। সেই মানুষটিকে আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই তোমরা যত স্লোগান আমার নামে দাও, তার চেয়ে বেশি স্লোগান তার নামেই দাও।”

তার বক্তব্য শেষে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা স্লোগানে ফেটে পড়ে—
“তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে।”
মুহূর্তেই রামপুর বাজার এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

পথসভায় বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহীম মোল্লা বলেন—

“কিশোরগঞ্জ কাকে চায়? হোসেনপুর কাকে চায়?
খালেদা জিয়া কাকে চায়? তারেক রহমান কাকে চায়?
ধানের শীষে কাকে চাই? রাজপথে ভুলি নাই!
সুখে দুখে কাকে পাই, সংগ্রামে কাকে পাই,
কারাগারে কাকে পাই, সুসময়েও তাকেই চাই!”

তার স্লোগানের জবাবে জনতা একসঙ্গে গর্জে ওঠে—
“সোহেল ভাই! সোহেল ভাই!”

স্লোগান, করতালি ও সমর্থনের জোয়ারে পথসভাটি একপর্যায়ে মহাসমাবেশের রূপ নেয়।

কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও ভিপি সোহেলের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, “কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুরের মানুষ তার লড়াকু নেতৃত্বে আশার আলো দেখে।”

সভা শেষে কর্মীরা লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রাখেন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের ভাষ্যে—

“রাষ্ট্র সংস্কারের এই ৩১ দফাই দেশের পুনর্গঠনের রূপরেখা—
এটি এখন কেবল একটি ঘোষণা নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারের প্রতীক।”

কিশোরগঞ্জ-৫: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-৫: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল

কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এদিন দলের পক্ষ থেকে আরও ৩৫ জনকে বিভিন্ন আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য। দলীয় তৃণমূলের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই তার নামের পক্ষে ছিল। স্থানীয় নেতা–কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক হাল ধরে রেখেছেন। একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকারও হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ–৫ আসনটি বাজিতপুর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। নিকলী-বাজিতপুর উপজেলার নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে, বাজিতপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৯০ জন এবং নিকলীতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৭ জন। এই আসনে সর্বমোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৬৭ জন।

কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির নতুন মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির নতুন মনোনয়ন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিতীয় দফায় কিশোরগঞ্জের দুইটি আসনে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, আর কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।

বৃহস্পতিবার গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ৩৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেখানে কিশোরগঞ্জের এই দুই আসনে নতুন মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৭টি আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। সেই তালিকায় কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ড. ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে মো. শরীফুল আলম মনোনয়ন পান। নতুন ঘোষণার পর কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। অন্যদিকে মো. মাজহারুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

বিএনপি ঘোষণা করল দ্বিতীয় দফার ৩৬ আসনের প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিএনপি ঘোষণা করল দ্বিতীয় দফার ৩৬ আসনের প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় ৩৬ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পৌনে ৪টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর আগে, গত ৩ নভেম্বর দলটি ২৩৭ আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে মাদারীপুর-২ আসনে ঘোষিত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করে দলটি। এবার ঘোষিত আসনে মাদারীপুর-২ আসনটি রয়েছে, যেখানে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। ঘোষিত এই ৩৬ আসনের মধ্যে টাঙ্গাইল-৫ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা-৯-এ হাবিবুর রহমান, ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া এবং চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। মনোনয়ন পাওয়া অপর আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৫, নড়াইল-২, খুলনা-১, পটুয়াখালী-২, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৪, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সিগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৮, গাজীপুর-১, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-৪, হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-২, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১৫ ও কক্সবাজার-২।