নিকলীতে দুই ইটভাটার দূষণে শিশু–বৃদ্ধ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা সদর ইউনিয়নের কুর্শা এলাকায় অবস্থিত দুইটি ইটভাটার ধোঁয়া ও বায়ুদূষণে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন বলে বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, কুর্শা এলাকার একটি ইটভাটা এক বছর আগে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ অভিযানে ভেঙে ফেললেও, কয়েকদিনের মধ্যেই “উচ্চপর্যায়ের প্রভাব খাটিয়ে” পুনরায় ইটভাটা স্থাপন করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গত কয়েক মাস আগে জারইতলা ইউনিয়নের একটি ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তর ভেঙে দিলেও নিকলী সদরের এই দুইটি ইটভাটা প্রশাসনকে “ম্যানেজ” করে নিয়মিতই চলছে—এমন অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী।
টপসয়েল নষ্ট করে কৃষিজমি সাবাড়
অভিযোগ রয়েছে, ভেকু দিয়ে কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নিয়ে ভাটায় মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষিজ উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।
রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ট্রাকযোগে এসব মাটি আনা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সড়কের ভয়াবহ ক্ষতি ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি
ট্রাকের ভারী চলাচলে সদর ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলো ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি—গত কয়েক বছরে এসব গর্ত ও সড়ক ভাঙনের কারণে ৪–৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
প্রশাসনের বক্তব্য
নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্তকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন—
“এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে ১–২ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অবহেলা ও ভাটামালিকদের প্রভাবের কারণে এলাকা দিনে দিনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, পরিবেশ বিপর্যয় এবং সড়ক-দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।




