মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২

ইটনায় কৃষকের ফিসারিতে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

হারিছ আহমেদ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইটনায় কৃষকের ফিসারিতে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের রামপুর মৌজা এলাকায় এক কৃষকের ফিসারিতে হামলা চালিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ইটনা উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী নাজমুল ঠাকুর ও ধনপুর ইউনিয়নের প্রধান সমন্বয়কারী সুজিত দাসসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মনো রঞ্জন দাস ইটনা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এনসিপি নেতা নাজমুল ঠাকুরের নির্দেশে সুজিত দাস, নিক্সন মিয়া, সোহেল মিয়াসহ ৪০–৪৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রামপুর সংলগ্ন ফিসারিতে প্রবেশ করে। তারা ফিসারিতে থাকা মাছ ধরার প্রস্তুতকৃত জাল কেটে ফেলে এবং মনো রঞ্জন দাসের পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, ধাওয়া ও হত্যার হুমকি দেয় এবং দুই লক্ষ টাকা চাঁদা পরিষদের তাগিদ দেন।

ভুক্তভোগী মনো রঞ্জন দাস অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তারা পৈতৃক জমিতে বছরের পর বছর ধরে ধান চাষ ও মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চলতি বছর ফিসারির বাঁশ, নৌকা এবং অন্যান্য সরঞ্জামে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করেন। কিন্তু ওই রাতে হামলাকারীরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফিসারির বাঁশ কাটাসহ একাধিক নৌকা ভাঙচুর করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গোপাল দাস নামে এক মাছব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ১ লক্ষ টাকা জোর করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ফিসারির বাঁশ ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন তিনি।

মনো রঞ্জন দাস আরও জানান, চাঁদা না দিলে ‘মড় জ্বালাই করে দেবে’ বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ঘটনার পর গ্রামবাসীকে ঘটনাস্থল দেখাতে গেলে বিবাদী পক্ষ তাদেরও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ধনপুর ইউনিয়নের এনসিপি নেতা সুজিত দাস বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা ও গুজব আমরা ফিসারিতে গিয়েছিলাম উনাদের কে বাধা দেওয়ার জন্য কেননা এই জায়গায় বাদ দিয়ে আমরা আরো আগে থেকেই মাছ ধরে আসছি বাধা দেওয়ার পর কারো কোনো ক্ষতি হয়নি। এই বিষয়ে এনসিপির ইটনা উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী নাজমুল ঠাকুরের মুঠোফোনে একাধিক কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাফর ইকবাল বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নরত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদ ‘চন্দ্রাবতী’র সভাপতি মিশকাতুল আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আলম সাকির স্বাক্ষরিত প্যাডে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াত তনয় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চিন্ময় রায়। সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন হামীম আহমেদ, সানজিদা ঐশী, তাসনিয়া অর্ণা ও কানিজ ফাতেমা সেতু।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আরমান ইমন, হৃদয় রায়, মেহরাব হোসেন মৃদুল, রিফাইয়াত সুলতানা জেমি, সাদিয়া আক্তার উর্মি ও আতাহারুল ইসলাম মাহী। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাজিদ ইউসুফ।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও নেতৃত্বের বিকাশে ‘চন্দ্রাবতী’ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। নবগঠিত কমিটি এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

নবনির্বাচিত সভাপতি সাখাওয়াত তনয় বলেন, “শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করব। সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সক্রিয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই।”

সাধারণ সম্পাদক চিন্ময় রায় বলেন, “সংগঠনের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে নতুন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা এবং কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও কার্যকর করা হবে।”

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘চন্দ্রাবতী’ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ ও সম্প্রীতি জোরদার করে আসছে। আগামী এক বছরের জন্য গঠিত এ কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কুলিয়ারচর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহত শিশু আশরাফুল দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে খাওয়ানোর পর ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই ঝাড়ু দিতে যান। কিছু সময় পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে ঘরে এসে জানায়, দোলনায় তার ছোট ভাই নেই। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘর, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা খুঁজেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।

এক প্রতিবেশী দাবি করেন, বোরকা পরিহিত তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের কোলে একটি শিশু ছিল। এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শিশু চুরির গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও দীর্ঘ ২৬ দিনেও শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

শিশুটির দাদি অভিযোগ করেন, তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী রুপা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রুপা আক্তার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পারিবারিক বিরোধ, সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে হতদরিদ্র পরিবারের ঘরবাড়ি ও পশু পুড়ে ছাই, ক্ষতি লক্ষাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে হতদরিদ্র পরিবারের ঘরবাড়ি ও পশু পুড়ে ছাই, ক্ষতি লক্ষাধিক

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হতদরিদ্র পরিবারের বসতঘর ও গৃহপালিত পশু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগীমোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম জানান—ভোররাতে সেহরি খেয়ে নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। হঠাৎ আগুনের তাপ ও ধোঁয়া টের পেয়ে ঘুম থেকে জেগে দেখেন ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে। তাঁর ধারণা, ঘরের ভেতরে অটোরিকশা চার্জে সংযুক্ত ছিল; সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরে থাকা একটি ছাগল পুড়ে মারা যায় এবং আরেকটি ছাগল গুরুতর দগ্ধ হয়। এছাড়া একটি রিকশা ও একটি সাইকেলও আগুনে পুড়ে যায়।

খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন রিকশাচালক। কষ্ট করে মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সংসার চালাই। আমার স্ত্রী ছাগল পালন করে বছরে কিছু আয় করতেন। তিলে তিলে টাকা জমিয়ে ঘরটি নির্মাণ করেছিলাম। আজ সব শেষ হয়ে গেছে।” তিনি সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে পুনরায় ঘরটি নির্মাণ করতে পারেন।

এলাকাবাসী জানান, সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তারা। হঠাৎ চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখেন আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আরমান হোসেন উজ্জ্বল বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঘর, দুটি ছাগল, একটি সাইকেল ও একটি রিকশার অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। আগুনের সূত্রপাত বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।