শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মাসুদ হিলালীর বাসায় সাক্ষাৎ করতে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হলো মাজহারুল ইসলামকে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাসুদ হিলালীর বাসায় সাক্ষাৎ করতে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হলো মাজহারুল ইসলামকে

সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মাসুদ হিলালীর বাসায় সাক্ষাৎ করতে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হলো মাজহারুল ইসলামকে। কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সুপরিচিত মুখ এই প্রবীণ নেতা ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার(৪ ডিসেম্বর) বিকালে আচমকা ঘোষিত বিএনপি’র ৩৬ মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর তালিকায় কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মনোনীত হন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। সন্ধ্যায় তিনি প্রবীণ এই নেতার সঙ্গে দেখা করতে শোলাকিয়ার তার বাসায় গেলে দরজায় পৌঁছানোর পরই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট হয়—দেশনেত্রীর অসুস্থতার সময় হঠাৎ মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা এবং কিশোরগঞ্জে মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন নিয়ে এ প্রবীণ নেতার মধ্যে গভীর অসন্তোষ রয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধি শোলাকিয়ার স্থানীয় এক মহিলাকে বলতে শুনেছেন—“মাজহার সাহেব আজকে লোক দেখাতে এই সাক্ষাৎ নাটক করতে আসছে।”

কিন্তু কেন?

এর উত্তরের জন্য কয়েক মাস পেছনে যেতে হয়। গত সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ ৯ বছর পর বিএনপির জেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসন পতনের পর দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে—তৃণমূল কমিটি গঠনে পক্ষপাতিত্ব, কাউন্সিলে নিজের পছন্দের লোকদের অগ্রাধিকার দেওয়া ইত্যাদি।

সবশেষে কাউন্সিলের দিন সবচেয়ে বড় অভিযোগ প্রকাশ পায়—এত বড় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত এবং মহাসচিব উপস্থিত থাকলেও জেলার অনেক সিনিয়র নেতা আমন্ত্রণই পাননি। যাদের মধ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের অগ্রজ নেতা জনাব মাসুদ হিলালী অতিথি হিসেবেও আমন্ত্রণ পাননি। সাংগঠনিকভাবে অদক্ষতার অভিযোগের মধ্যেই তিনি তার পূর্ববর্তী নেতৃত্বের কথা বলে কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হন—যা আওয়ামী আমলে তার কার্যক্রমকে ঘিরে অনেকের প্রশ্নের জন্ম দেয়।

জনাব মাসুদ হিলালীর এলাকার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে, ২০০১ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান—যখন সারাদেশে বিএনপির জোয়ার, তখন জনাব মাজহারুল ইসলাম নৌকার ব্যাজ পরে সৈয়দ আশরাফের পক্ষে নির্বাচন করেন এবং মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ হিলালী পরাজিত হন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রতিক্রিয়াতেও অসন্তোষ স্পষ্ট। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অন্যতম কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও জজ জনাব রেজাউল করিম খান চুন্নু এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ অনেকে মনে করেন—আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময়ে হঠাৎ করে মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা দলের ভেতর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পরিকল্পিত চেষ্টা। একই সঙ্গে তৃণমূলে অজনপ্রিয় মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন কিশোরগঞ্জে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সবাই দেশমাতার অসুস্থতার এই সময়ে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে, ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে বেগম জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে আহ্বান জানান। কারণ—দেশের এই কঠিন সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা সবার আগে।

‘মাদকসেবী বা মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’

‘এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, রাতের ভোটের নয়’- এমপি জালাল উদ্দিন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
‘এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, রাতের ভোটের নয়’- এমপি জালাল উদ্দিন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে মুগদিয়া বাজারে মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস রতন ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই সরকার জনগণের সরকার। এটি বিনা ভোটের সরকার নয়, রাতের ভোটের সরকারও নয়। জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে।”

তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অপরাধ নির্মূলে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মাদক বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এমপি জালাল উদ্দিন আরও বলেন, “মাদকসেবী ও মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।”

তিনি জানান, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত আইনে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে জামিন সীমিত করার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। প্রয়োজন হলে ডোপ টেস্টের মাধ্যমেও মাদকসেবী ও কারবারিদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা সাধারণ মানুষের মতো সমাজে চলাফেরা করলেও তাদের চিহ্নিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামে মাদক হারাম ঘোষিত হয়েছে। তাই একজন মুসলমান হিসেবে মাদক থেকে দূরে থাকা সামাজিক দায়িত্বের পাশাপাশি ধর্মীয় দায়িত্বও।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের কেউ যদি মাদকসেবন বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সভাপতি ওই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। এসব কমিটির মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করা হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা প্রয়োজন। পরিবার থেকেই মাদকবিরোধী সচেতনতার সূচনা হতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ভিপি কামাল উদ্দিন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদল।

এ সময় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

মামলা চলমান, তবু নির্মাণকাজ! করিমগঞ্জে জেলা পরিষদের জমি নিয়ে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
মামলা চলমান, তবু নির্মাণকাজ! করিমগঞ্জে জেলা পরিষদের জমি নিয়ে চাঞ্চল্য

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মূল্যবান সরকারি জমিতে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দিকে, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা ও আইনগত নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করিমগঞ্জ মৌজার জেলা পরিষদের প্রায় ৮৯ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগ রয়েছে, বিচারাধীন অবস্থাতেই শনিবার (২০ জুন) সকালে মৃত আব্দুল জব্বার মেম্বারের ছেলে কামাল, জামাল, এরশাদ ও বাবুল ওই জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

এর আগে গত ২ জুন জেলা পরিষদের প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় নির্মাণকাজের চেষ্টা চালানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী মো. হাসিবুর রহমান সবুজ বলেন, জমিটি নিয়ে বর্তমানে আদালতের ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এর আগে গত ২ জুন করিমগঞ্জ পৌরসভার আশুতিয়াপাড়া সংলগ্ন এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জেলা পরিষদের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, করিমগঞ্জ মৌজার সাবেক দাগ নম্বর ৯৮২ ও ৯৮৯-এর আওতাভুক্ত প্রায় ৮৩ শতাংশ (০.৮৩ একর) ভূমি জেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত সরকারি সম্পত্তি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

অভিযোগে বলা হয়, জেলা পরিষদের প্রশাসকের নির্দেশনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংশোধিত মালিকানা-সংক্রান্ত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার, অফিস সহায়ক ও অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

একই অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থাপিত সরকারি সাইনবোর্ড উপড়ে পাশের নরসুন্দা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যা সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের শামিল।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধ, সাইনবোর্ড ভাঙচুর এবং নির্মাণচেষ্টার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ কোন হীরক রাজার দেশ? শিক্ষকদের বেতনে দুই নীতি!

শাহীন আলম প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
এ কোন হীরক রাজার দেশ? শিক্ষকদের বেতনে দুই নীতি!

সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ যেমন নিয়ম ছিল ক্ষমতাবানদের জন্য এক রকম, সাধারণ মানুষের জন্য আরেক রকম—বাস্তবেও যেন তেমন এক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দেশের এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকরা। একই শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হয়েও স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা মাসের শুরুতেই বেতন পেলেও, মে মাসের শেষভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বেতন-ভাতা পাননি হাজারো মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী।

দেশের ৮ হাজার ২২৯টি মাদ্রাসার প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ২৩১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অভিযোগ, একই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকেও তারা বৈষম্যের শিকার। স্কুল-কলেজে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পৌঁছে গেলেও মাদ্রাসা শিক্ষকদের এখনো ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে আটকে থাকতে হচ্ছে।

ফলে সংসার চালানো, বাসাভাড়া পরিশোধ, সন্তানের লেখাপড়া কিংবা পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, মানুষ গড়ার কারিগর হয়েও নিজের পরিবারটিই যেন ঠিকভাবে সামলাতে পারছেন না।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের এই দুর্ভোগ জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়েছে। গত ১৬ জুন সংসদে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন বেতন-ভাতা বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মে মাসের বেতন না পাওয়ায় অর্থাভাবে এক শিক্ষক তাঁর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে এমইএমআইএস (MEMIS) প্রকল্প চালু হলেও সেখানে স্কুল-কলেজের মতো পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মাত্র কয়েকটি মাদ্রাসায় পরীক্ষামূলকভাবে ইএফটি চালু থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বেতন ছাড় করা হয়।

এদিকে সরকার জানিয়েছে, প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ইএফটি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া বেতন-ভাতা ছাড়ের চেষ্টা চলছে।

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলছেন, তাদের দাবি নতুন কিছু নয়—স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের মতো মাসের প্রথম দিনেই যেন বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। একই রাষ্ট্রে, একই শিক্ষা ব্যবস্থায়, একই দায়িত্ব পালন করেও দুই ধরনের বাস্তবতা তারা আর দেখতে চান না।