বিতর্কিত মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে উত্তাল কিশোরগঞ্জ এ সংবাদ সম্মেলন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী বুধবার (১০ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণা হতে পারে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গত ২৩ নভেম্বর হতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। সারাদেশের মানুষ তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিএনপির দ্বিতীয় দফার মনোনয়ন তালিকা প্রকাশিত হলে কিশোরগঞ্জ-০১ (কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুর) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন মো. মাজহারুল ইসলাম। তবে স্থানীয় নেতাকর্মী ও তৃণমূলের বৃহৎ অংশ এই মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মনোনয়নপ্রত্যাশী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা পৃথক কর্মসূচিও পালন করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডস্থ (ফ্যাসিবাদী আমলের ১৭ বছর যাবৎ জেলা বিএনপির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত)রেজাউল করিম খানের কার্যালয়ে বিএনপির পাঁচ শীর্ষ নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—
সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হিলালী, সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল হুসাইন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট শরিফুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান জনাব মাসুদ হিলালী। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুরের আপামর জনসাধারণের দুঃখ–দুর্দশা দূর করতে একজন যোগ্য প্রার্থী আশা করলেও এই এলাকায় শকুনের দৃষ্টি পড়েছে। দুইবার কিশোরগঞ্জ পৌরসভা মেয়র প্রার্থী হয়ে একবার জামানত বাজেয়াপ্তসহ গোহারা জনাব মাজহারুল ইসলাম স্বৈরাচারের দোসর, আওয়ামী নেতাদের বাসায় আশ্রয় গ্রহণকারী।
যেখানে সাধারণ কর্মীরা কথায় কথায় মামলা খেয়েছে, সেখানে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও মাজহার সাহেবের একটিও রাজনৈতিক মামলা নেই—এটা সম্ভব হয়েছে শুধু আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত থাকার কারণেই। সংবাদ সম্মেলনে জেলা সভাপতি আলমের দিকে ইঙ্গিত করে আরো বলা হয়, অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে সাধারণ সম্পাদক হওয়া এবং অন্যের স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে মনোনয়ন পাওয়া মাজহারুলের মনোনয়ন বাতিল করে যোগ্য, ত্যাগী এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত যে–কোনো একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচি হলো—
৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে শহর প্রদক্ষিণ করে মশাল মিছিল। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) হোসেনপুর নতুন বাজারে বিকেল ৪:০০টাতে প্রতিবাদ গণসমাবেশ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জ পুরানথানায় দুপুর ৩টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি এবং সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।










