হাদির ওপর হামলা সতর্কবার্তা, পাল্টা জবাব ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে সরকার। এই হামলার প্রেক্ষাপটে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে হাদির ওপর হামলাকে নির্বাচন বন্ধের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে নির্বাচন ঘিরে জনমনে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা এবং নাশকতা প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাসিস্ট টেররিস্টদের দমন’-এর লক্ষ্যে অবিলম্বে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা বানচাল করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
এর আগে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনার পর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়। ওই অভিযানে সারা দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বহু ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়, বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত একাধিক চিহ্নিত গ্রুপের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অপারেশন চলাকালে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং জননিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।
সরকার মনে করছে, নির্বাচন সামনে রেখে আবারও চোরাগোপ্তা হামলা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং নাশকতার ঝুঁকি বাড়ছে। হাদির ওপর গুলির ঘটনার পর একই রাতে রাজধানীর বাড্ডায় একটি বাসে ও লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে একই সূত্রে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ প্রেক্ষাপটে ফেজ–২ অভিযানে পেশাদার সন্ত্রাসী, অবৈধ অস্ত্রের রুট, অর্থের জোগানদাতা এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখনো লুট হওয়া ১ হাজার ৩৩৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, যার মধ্যে প্রায় ৪০০টি পিস্তল রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো বড় ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজ করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা রাজনৈতিক নেতা ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ হটলাইন চালুর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—যেকোনো মূল্যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচন ঘিরে নাশকতার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে হবে।
এ বিষয়ে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশের যা যা করা প্রয়োজন, সবই করা হবে। ভোটার ও প্রার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।







