রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাদির ওপর হামলা সতর্কবার্তা, পাল্টা জবাব ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাদির ওপর হামলা সতর্কবার্তা, পাল্টা জবাব ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে সরকার। এই হামলার প্রেক্ষাপটে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে হাদির ওপর হামলাকে নির্বাচন বন্ধের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে নির্বাচন ঘিরে জনমনে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা এবং নাশকতা প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাসিস্ট টেররিস্টদের দমন’-এর লক্ষ্যে অবিলম্বে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা বানচাল করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এর আগে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনার পর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়। ওই অভিযানে সারা দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বহু ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়, বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত একাধিক চিহ্নিত গ্রুপের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অপারেশন চলাকালে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং জননিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।

সরকার মনে করছে, নির্বাচন সামনে রেখে আবারও চোরাগোপ্তা হামলা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং নাশকতার ঝুঁকি বাড়ছে। হাদির ওপর গুলির ঘটনার পর একই রাতে রাজধানীর বাড্ডায় একটি বাসে ও লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে একই সূত্রে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ প্রেক্ষাপটে ফেজ–২ অভিযানে পেশাদার সন্ত্রাসী, অবৈধ অস্ত্রের রুট, অর্থের জোগানদাতা এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখনো লুট হওয়া ১ হাজার ৩৩৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, যার মধ্যে প্রায় ৪০০টি পিস্তল রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো বড় ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজ করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা রাজনৈতিক নেতা ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ হটলাইন চালুর সিদ্ধান্তও হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—যেকোনো মূল্যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচন ঘিরে নাশকতার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে হবে।

এ বিষয়ে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশের যা যা করা প্রয়োজন, সবই করা হবে। ভোটার ও প্রার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।