দেশের মানুষের জন্য আমার পরিকল্পনা আছে: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে বলতে চাই— দেশের মানুষের জন্য আমার পরিকল্পনা আছে। আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আগামীতে ক্ষমতায় এলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে আমরা দেশ পরিচালনা করব। আমরা যে ধর্মেরই হই বা যে রাজনৈতিক দলের অনুসারীই হই না কেন— দেশের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেন মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ মঞ্চে উঠে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাই। যে কোনো মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য মহান আল্লাহর রহমত প্রয়োজন। তাঁর রহমতেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তি এখনও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দিন আগে ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হাদি ছিল গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একজন সৈনিক। তাই আমাদের সব ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে সুন্দরভাবে দেশ গড়া যায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশে পাহাড় ও সমতলের মানুষ রয়েছে। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই— যেখানে নারী ও শিশুরা নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ফিরতে পারবে।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গত দেড় যুগে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। অথচ শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি মদিনার সনদের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।’
তিনি তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে ৩০০ ফিট এলাকার আশপাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষের ঢল নামে। নেতাকে এক নজর দেখার আশায় অনেক নেতাকর্মী দুদিন আগেই অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে অবস্থান নেন। পূর্বাচল, নীলা মার্কেট, নামাপাড়া, কুড়িল বিশ্বরোড ও খিলক্ষেত মোড়সহ আশপাশের অলিগলিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। কোথাও তিল পরিমাণ জায়গা ছিল না।
এ ছাড়া আশপাশের ভবনের ছাদ, যানবাহনের ওপর এবং ওভারব্রিজেও অবস্থান নেন অসংখ্য মানুষ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। তার গাড়িবহরে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও ছিলেন।
পথে পথে জনসমুদ্র পেরিয়ে বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে তারেক রহমানের তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। বিকেল সাড়ে ৩টার পর তিনি মঞ্চে ওঠেন।
এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার বিরতির পর সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।







