সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

ইকবালের মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ-৫ এ কাফনের কাপড়ে মশাল মিছিল

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইকবালের মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ-৫ এ কাফনের কাপড়ে মশাল মিছিল

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) সংসদীয় আসনে বিএনপির ত্যাগী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রতিবাদে বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলায় টানা বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন—ইকবালের মনোনয়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় বাজিতপুর বাজারের রেজু মার্কেট এলাকায় বৃহৎ পরিসরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। একই সঙ্গে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী সৈয়দ এহসানুল হুদাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে গত ২২ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। একই দিনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে তাকে ওই আসনের নতুন মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই ইকবাল সমর্থকরা রাজপথে নামেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন পুনর্বহাল না হলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে দল থেকে গণপদত্যাগের মতো কঠোর কর্মসূচিতেও যেতে বাধ্য হবেন তারা।

বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাজিতপুর ও নিকলীর নেতাকর্মীদের পাশে বটগাছের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। মামলা-হামলা, নির্যাতন, মসজিদ-মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই তার অবদান রয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে বিএনপির অঙ্গসংগঠন তা মেনে নেবে না। এতে এই আসনে দল চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। আজও আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই—ইকবাল ছাড়া অন্য কাউকে বাজিতপুর-নিকলীর বিএনপির নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।”

বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বাদল বলেন, “ইকবাল ভাই মনোনয়ন না পেলে আমি স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করব।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সরারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মহসিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লিটন ভুঁইয়া, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এরশাদ মিয়া, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মুর্তজা আলী জাহাঙ্গীর, নিকলী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আজহারুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহরিয়ার শামীম, কৃষক দলের সদস্যসচিব ফাইজুল ইসলাম টিটু, শ্রমিক দলের সভাপতি আলী আহসান সবুজ, জাসাসের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ মিঠু, উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শেখ রাফিদ রহমান প্রমুখ।

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতাকে বাদ দিয়ে কোনো মনোনয়ন সিদ্ধান্ত বাজিতপুর-নিকলীর জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।

হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জনদুর্ভোগ কমাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (২ মার্চ) দুপুরে হোসেনপুর পৌর বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসীন মাসনাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে পৌর বাজারের কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে মূল্যতালিকা যাচাই করা হয়। পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কের ওপর স্থাপিত অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়।

দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে যানজট এড়াতে চারটি প্রবেশমুখ দিয়ে শহরের ভেতরে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করেছে বলে জানায় প্রশাসন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসীন মাসনাদ বলেন, “সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো ও বাজারব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ফুটপাত দখল ও যানজট নিরসনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। বিএনসিসি সদস্যরা প্রশংসনীয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।”

পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তা স্থায়ীভাবে কার্যকর রাখার দাবি জানিয়েছেন।

হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিকের পিতা ও মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) হোসেনপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত হোসেনপুর মডেল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক ও দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মরহুম পিতা ও মরহুমা মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হোসেনপুর উপজেলার উন্নয়ন, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিক তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মালিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও নদীর মধ্যে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার(১ মার্চ) তিনি এমন কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসুন্দা নদীতে কেউ কেউ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পৌরসভা কীভাবে এসব স্থাপনার প্ল্যান পাস করল? প্রয়োজনে জমির মালিকদের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা হবে; তবে নদীর মধ্যে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

কিশোরগঞ্জের নানামুখী উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও নিটোল মোটরসের কাছে বিক্রি করা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পরিদর্শন করবেন। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব না হলেও সেখানে বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হোসেনপুরের কাউনা বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুল্লাহ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলার আমীর মোঃ রমজান আলী, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে নাসিম , হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মবিন মিয়া, কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক , কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া সহ অনেকে।