গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিলবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ সরকারের
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দিতে নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও ম্যানুয়্যাল বিলবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে গণভোটের বিষয়বস্তু তুলে ধরে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের দপ্তরের সিনিয়র সহকারী সচিব মীর আলিফ রেজার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা দিতে নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও ম্যানুয়্যাল বিলবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সারাদেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র ও প্রশাসকদের এ পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব।
সভায় দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৩৩০টি পৌরসভার প্রশাসক অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা অনলাইনে সভায় অংশ নেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সভার শুরুতে সভাপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে। কিছু এলাকায় বিলবোর্ডের মাধ্যমেও প্রচারণা চলছে। আরও বিলবোর্ড স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বিভিন্ন স্থানে তথ্যচিত্র প্রদর্শন, উঠান বৈঠক, ভোট আলাপসহ সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জানান, ‘ভোটের গাড়ি’ বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে প্রচারণা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাতটি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে এবং আরও ভিডিও কনটেন্ট তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি অন্যান্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা তাঁদের গৃহীত কার্যক্রম সভায় উপস্থাপন করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মহানগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ পৌর শহরের প্রবেশপথসহ জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও স্থির বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচার করতে হবে। স্থানীয় সরকারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। এ ছাড়া মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য ধর্মের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমেও ভোটারদের কাছে গণভোটের বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ সবাইকে গণভোটের লোগো সর্বত্র ব্যবহার করার অনুরোধ জানান, যাতে তা জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের লোগো, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত গণভোটের ব্যালট এবং গণভোট সম্পর্কিত লিফলেট যতটা সম্ভব জনবহুল স্থানে প্রচার করতে হবে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত কনটেন্ট যত বেশি সম্ভব স্থানে ও যতবার সম্ভব প্রচারের অনুরোধ করেন।










