ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের আইনি টিমের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনের জন্য ২১ সদস্যের একটি আইনী সহায়তা টিম গঠন করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মননকে এই আইনী সহায়তা টিমের আহ্বায়ক করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট আরফান উদ্দিন খান একজন সুপরিচিত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত খান পরিবারের পূর্বসূরীরা প্রায় ৯৫ বছর ধরে বনগ্রাম ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর মাধ্যমে পরিবারটির সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন সম্মুখ সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ কারণে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন এবং অসংখ্য গায়েবি ও মিথ্যা মামলার শিকার হন। তবে এসব নির্যাতন ও হয়রানির মধ্যেও তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অটল ছিলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের দমন-পীড়নের শিকার হয়েও তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নিজেকে একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জুলাই ২৪-এর আন্দোলনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এর ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কেন্দ্রে ডাক পেলেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার পরও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
এবার দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নিজ নির্বাচনী আসনে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন। ঢাকা-১৭ আসনের জন্য গঠিত আইনী সহায়তা টিমের আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া নতুন প্রজন্মের এই যুবনেতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০০০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ইউনিট পর্যায় থেকে নেতৃত্ব দিয়ে থানা, মহানগর এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে তিনি নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।
ছাত্রদলের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সর্বপ্রথম নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিট ও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবেও সক্রিয় দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য এবং ফাউন্ডেশনের “লিগ্যাল এইড সেল” কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নিপীড়নমূলক ও মিথ্যা মামলার শিকার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে প্রত্যক্ষভাবে আইনী সহায়তা দিয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।










