বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের আইনি টিমের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের আইনি টিমের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনের জন্য ২১ সদস্যের একটি আইনী সহায়তা টিম গঠন করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মননকে এই আইনী সহায়তা টিমের আহ্বায়ক করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট আরফান উদ্দিন খান একজন সুপরিচিত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত খান পরিবারের পূর্বসূরীরা প্রায় ৯৫ বছর ধরে বনগ্রাম ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর মাধ্যমে পরিবারটির সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন সম্মুখ সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ কারণে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন এবং অসংখ্য গায়েবি ও মিথ্যা মামলার শিকার হন। তবে এসব নির্যাতন ও হয়রানির মধ্যেও তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অটল ছিলেন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের দমন-পীড়নের শিকার হয়েও তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নিজেকে একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জুলাই ২৪-এর আন্দোলনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কেন্দ্রে ডাক পেলেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার পরও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

এবার দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নিজ নির্বাচনী আসনে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন। ঢাকা-১৭ আসনের জন্য গঠিত আইনী সহায়তা টিমের আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া নতুন প্রজন্মের এই যুবনেতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০০০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ইউনিট পর্যায় থেকে নেতৃত্ব দিয়ে থানা, মহানগর এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে তিনি নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

ছাত্রদলের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সর্বপ্রথম নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিট ও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবেও সক্রিয় দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য এবং ফাউন্ডেশনের “লিগ্যাল এইড সেল” কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নিপীড়নমূলক ও মিথ্যা মামলার শিকার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে প্রত্যক্ষভাবে আইনী সহায়তা দিয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী মো. নাজমুল ইসলাম হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ আদালতের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আলোকে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের মেচেড়া (আটকাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে দখল ও বসতঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় আবেদন করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের শহীদ মিয়া, সোহাগ মিয়া, মো. ফজলু গংসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

আরও বলা হয়, বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে দখল নেওয়া এবং বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। হোসেনপুর থানা থেকে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমিতে কেউ কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, দখল বা অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিবাদীপক্ষ ওই নির্দেশনা অমান্য করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতিরোধে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টির স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ৬ নম্বর পুমদী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নান্দানিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোশারফ হোসেনকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

তার এই গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে পুমদী ইউনিয়নসহ হোসেনপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

জানা যায়, মোশারফ হোসেন এর আগে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে ওসি (ডিবি) হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

পুমদী ইউনিয়নবাসী আশা প্রকাশ করেন, তিনি নতুন কর্মস্থল সাটুরিয়া থানায়ও দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এ সময় তার সার্বিক সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ কর্মজীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়।

অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত সম্মানি ভাতা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণেরও কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রতি বছর চার হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া কোনো মুক্তিযোদ্ধা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে, স্বীকৃত হাসপাতালের বিল মন্ত্রণালয় পরিশোধ করে থাকে।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উপজেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

পৃথক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে তা যাচাই করে।

অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১০৩টি সভার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।