শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে মির্জা আব্বাস, উদ্বেগ কর্মকর্তাদের
হঠাৎ করে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থিত হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ভবনে প্রবেশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় তার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছিলেন। নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে তারা ভবনের নিচতলায় প্রবেশ করেন। পরে চারজনের একটি ছোট দল নিয়ে মির্জা আব্বাস গভর্নর ভবনের ভেতরে ঢোকেন। তবে ভবনের মূল ফটক ‘সোনালী গেট’-এর সামনে বহু নেতাকর্মী অবস্থান নেন।
ভেতরে ঢোকার পর মির্জা আব্বাস প্রথমে গভর্নর ভবনের তৃতীয় তলায় কিছু সময় অবস্থান করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনে যান। তখনও তার সঙ্গে কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও সেখানে দেখা যায়।
তিনি কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি জানান, এটি ছিল নিয়মিত ব্যাংকসংক্রান্ত কাজ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কেপিআইভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে এভাবে দলবল নিয়ে আসার ঘটনা আগে দেখা যায়নি।”
আরেক কর্মকর্তা বলেন, “ব্যক্তিগত বা ব্যাংকসংক্রান্ত কোনো কাজে যে কেউ আসতে পারেন। অতীতেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সরকারি ব্যক্তিরা এসেছেন। তবে এভাবে বিপুলসংখ্যক লোক নিয়ে আসার নজির নেই, যা উদ্বেগজনক।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “তিনি কী কারণে এসেছেন, তা এখনও জানা যায়নি। প্রয়োজনে যে কেউই বাংলাদেশ ব্যাংকে আসতে পারেন। তবে এভাবে অনেক লোক নিয়ে আসাটা ঠিক হয়নি।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা আব্বাস। তিনি চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং একসময় ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন হলে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী মেয়াদে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসের সম্পদের তালিকায় ঢাকা ব্যাংকের ৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া তার নামে ৩০ লাখ টাকার গহনা ও মূল্যবান ধাতু রয়েছে। তার বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ থাকলেও ব্যবসা থেকে কোনো আয় দেখানো হয়নি। তার আয়ের বড় অংশ আসে বাড়ি ভাড়া, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে। তার ছেলে ইয়াসির আব্বাস বর্তমানে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।










