নিকলীতে লাল পতাকা উপেক্ষা করে ১৫০ একর খাস জমি দখলের চেষ্টা
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে জেগে ওঠা প্রায় ১৫০ একর সরকারি খাস জমির চর দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক দলের কিছু প্রভাবশালীর সহায়তায় প্রশাসনের টাঙানো লাল নিশান সরিয়ে সেখানে পুনরায় চাষাবাদের চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, নিকলীর ছাতিরচর ও গুরই ইউনিয়নের বেয়াতিরচর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরের দখল নিয়ে প্রতিবছরই উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চলতি মৌসুমে পানি নামার পর নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। গত ১৮ নভেম্বর জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহৃত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের পর প্রায় এক মাস গুরুত্বপূর্ণ একটি খেয়াঘাট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ২৫ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসন যৌথবাহিনীর সহায়তায় ১৫০ একর খাস জমিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সরকারি দখল নিশ্চিত করে। তবে সম্প্রতি বেয়াতিরচর এলাকার কিছু ব্যক্তি সেই লাল পতাকা সরিয়ে পুনরায় জমিতে চাষাবাদ ও ড্রেন নির্মাণ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছাতিরচরের বাসিন্দারা জানান, দখলের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের হুমকি ও অপমান করা হচ্ছে। এতে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ছাতিরচর গ্রামের বাসিন্দা হিমেল খান বলেন, সরকারি খাস জমিতে লাল পতাকা টাঙানো থাকলেও কিছু লোক তা সরিয়ে ড্রেন নির্মাণ ও চাষাবাদের চেষ্টা করছে, যা এলাকায় উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুকের দাবি, সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে বেয়াতিরচরের লোকজন চর দখলের পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, নতুন চরটি ছাতিরচরের নিকটবর্তী হওয়ায় ভোগের অধিকার তাদেরই হওয়া উচিত।
বৃদ্ধ কৃষক শামসুল ইসলাম বলেন, দখলের প্রতিবাদ করলে তাদের চলাচলের রাস্তা আটকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
বেয়াতিরচরের বাসিন্দা মো. শহীদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, আগে জমিটিকে ব্যক্তিগত মনে করলেও এখন তারা বুঝেছেন এটি সরকারি খাস জমি এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, যৌথবাহিনীর মাধ্যমে চরটি উদ্ধার করে লাল নিশান টাঙানো হয়েছে। কেউ দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




