সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

দুই প্রতীক, এক আসন—রিকশা নাকি দেয়ালঘড়ি?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুই প্রতীক, এক আসন—রিকশা নাকি দেয়ালঘড়ি?

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোছাদ্দেক ভূঞা। তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর জন্য প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, গত বুধবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একই জোটভুক্ত দুই দলের প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ নিয়েছেন।

এদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী পেয়েছেন ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীক এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী পেয়েছেন ‘রিকশা’ প্রতীক।

একই জোটের দুই প্রার্থীর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বুধবার বিকেলে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় প্রেস ব্রিফিং করে খেলাফত মজলিস। সেখানে দলের নেতারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আহমদ আলী কাসেমী বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিস এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচন করবে। জামায়াতে ইসলামী বাকি চারটি আসনে নির্বাচন করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আতাউল্লাহ আমিনের সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

তিনি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. জেহাদ খানের পক্ষে তাদের দলের প্রার্থী আতাউর রহমান শাহান সরে দাঁড়ান। একইভাবে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের মোছাদ্দেক ভূঞা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হেদায়েতুল্লাহ হাদী তা করেননি, যা ঠিক হয়নি। ফলে এই আসনে দুই প্রার্থী থাকায় জোটের কেন্দ্র থেকে বাধ্য হয়ে আসনটি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

আহমদ আলী কাসেমীর ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত আপাতত এই আসনে কোনো প্রার্থীর পক্ষেই নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবে না। তবে নির্বাচনের আগে জোট থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা এলে জামায়াত সক্রিয় হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নির্বাচন কতটা সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে—এ নিয়ে সংশয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর যে নতুন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের নির্বাচনমুখী হতে হবে।’

অন্যদিকে, এই আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হেদায়েতুল্লাহ হাদী। তিনি বুধবার রাতে বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং আহমদ আলী কাসেমীকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার কথা ছিল।’

এ বিষয়ে আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ‘প্রথমে আমাদের দলের জেলা আমির হিফজুর রহমান খানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে।’

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।