বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

২০ দিন বাকী নির্বাচনের, প্রচারণায় কি করতে পারবেন প্রার্থীরা: ইসির আচরণবিধি

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
২০ দিন বাকী নির্বাচনের, প্রচারণায় কি করতে পারবেন প্রার্থীরা: ইসির আচরণবিধি

তফশিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর ২০ দিন বাকি। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। এই প্রচারের জন্য ২০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে।

নির্বাচনি প্রচার চলাকালে প্রার্থীরা কী করতে পারবেন এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এছাড়া, ইসির পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রচার ও জনসভাঃ প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

এবারের নির্বাচনে প্রচার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না, যা দেশে প্রথমবারের মতো দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনি জনসভা বা সমাবেশ আয়োজন করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে সভা-সমাবেশ আয়োজনের কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে দিন, তারিখ ও সময় লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সভা-সমাবেশ করা যাবে না।

পথসভা ও যানবাহনঃ সড়ক, মহাসড়ক বা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলে ব্যবস্থা নেবে ইসি। প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ পোস্টারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পলিথিন বা রেকসিন ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা।

একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার কোনোটি দৈর্ঘ্যে ১৬ ফুট এবং প্রস্থে ৯ ফুটের বেশি হবে না। নির্বাচনি প্রচারে ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনেও রয়েছে বিধিনিষেধ। ব্যানার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল সর্বোচ্চ এ-ফোর আকৃতির, ফেস্টুন সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি হতে পারবে।

প্রচারসামগ্রীর মধ্যে প্রার্থীর ছবি বা প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে শুধুমাত্র পোর্ট্রেট আকারে এবং সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ মিটার ছাড়াতে পারবে না।

ডিজিটাল প্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(এআই): প্রার্থী, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থী, দল বা সংশ্লিষ্ট পেজের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার নিষিদ্ধ।

ঘৃণামূলক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্টঃ ঘৃণাত্মক, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার করা যাবে না। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার, ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতি ব্যত্যয়ও নিষিদ্ধ। প্রচার কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করা বাধ্যতামূলক, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করা যাবে না। গুজব ও AI অপব্যবহার প্রতিরোধের জন্য নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে: বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল বা অন্য যান্ত্রিক বাহন নিয়ে মিছিল, জনসভা বা শোডাউন নিষিদ্ধ। মশাল মিছিলও করা যাবে না। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না। তোরণ নির্মাণ বা আলোকসজ্জাও নিষিদ্ধ।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য। দলের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা ইসির হাতে রয়েছে।

কিশোরগঞ্জে ৩০ বিএনপি নেতার পর ২৭ যুবদল নেতা বহিষ্কার

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ৩০ বিএনপি নেতার পর ২৭ যুবদল নেতা বহিষ্কার

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) সংসদীয় আসনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির ৩০ নেতাকে বহিষ্কারের পর তৃতীয় ধাপে নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার ২৭ জন যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন নিকলী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান এবং বাজিতপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মোস্তফা আলী জাহাঙ্গীরসহ মোট ২৭ জন নেতা।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এবং বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার ১৩ জন বিএনপি নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রকাশ করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরও আগে, গত ২৬ জানুয়ারি একই দুই উপজেলার ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন বিএনপি নেতা এবং তৃতীয় ধাপে ২৭ জন যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া শতাধিক দলীয় নেতার মধ্যে বহিষ্কারের আতঙ্ক বিরাজ করলেও অনেকে এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীক নিয়ে মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় নেতারা ধারণা করছেন, নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত নেতার সংখ্যা ৫৭ ছাড়িয়ে শতাধিক হতে পারে।

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আর নেই

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নুরুজ্জামান বাদল হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক রাত ৩টার দিকে কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। পোস্টে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রাকচাপায় আব্দুস সাদেক (৭০) নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দুর্জয়ের মোড় এলাকায় নূরানি মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সাদেক ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি শ্রীনগর ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আটক ট্রাকচালক মো. হেলিম মিয়া (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার চরচারতলা গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরববাজারে কাজ শেষে ভৈরব দুর্জয়ের মোড়ের নূরানি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।