বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্তে ভেজা মাটি। এখানে আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ যারা ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী কাঠামো ও স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করতে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে ঐক্য ও অংশগ্রহণ ছিল, তা ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “অনেকে রংপুরকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”

কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক মৌসুমের ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী?” এ সময় জনতা ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দিলে তিনি সবাইকে ফজরের নামাজ আদায় শেষে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

সবশেষে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেও বিএনপি সরকার গঠন করলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আর নেই

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নুরুজ্জামান বাদল হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক রাত ৩টার দিকে কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। পোস্টে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রাকচাপায় আব্দুস সাদেক (৭০) নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দুর্জয়ের মোড় এলাকায় নূরানি মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সাদেক ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি শ্রীনগর ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আটক ট্রাকচালক মো. হেলিম মিয়া (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার চরচারতলা গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরববাজারে কাজ শেষে ভৈরব দুর্জয়ের মোড়ের নূরানি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জের গাইটালে আগুন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ পুড়ল ২ দোকান

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের গাইটালে আগুন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ পুড়ল ২ দোকান

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে যখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ ও দোয়া-ইবাদতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকায় সংঘটিত হয় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। দমকল বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দুই ব্যবসায়ীর প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার গাইটাল পুকুরপাড়ে ভূঁইয়া প্লাজার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি সেমি-পাকা মার্কেটের মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্স এবং বিসমিল্লাহ ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যার নামক দু’টি দোকানে আগুন লাগে। এতে দু’টি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেলসহ দোকান দু’টির প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এশার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও আলোচনা চলাকালীন সময়ে রাস্তায় চলাচলকারী স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বন্ধ থাকা দোকানের ভেতরে আগুনের উপস্থিতি টের পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা দোকান মালিক ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ খালিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তাকে স্টেশনে ভেজা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি জানান, ঘটনার সময় দমকল বাহিনীর সদস্যরা নামাজ শেষে নামাজের পোশাকেই ছিলেন। গাইটাল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত দুটি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে দুটি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল কাদির জানান, তার দোকানে একটি নতুন ও একটি পুরাতন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ছিল, যা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া তার প্রতিবেশী বন্ধু গোলাপের একটি মোটরসাইকেলও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। দোকানের হিসাব সংক্রান্ত কিছু খাতাও আংশিকভাবে পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।

বিসমিল্লাহ ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যারের মালিক শরিফুল ইসলাম রুবেল মুঠোফোনে জানান, তার দোকানে থাকা রং, স্যানিটারি পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের লোহার সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় তার প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের কেউ কেউ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা বললেও বাস্তবে মালিকপক্ষ, এলাকাবাসী কিংবা দমকল বাহিনীর কেউই বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। জানা যায়, দোকানে কয়েকটি খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও ড্রাম ভর্তি টারপিন থাকলেও সেগুলো অক্ষত ছিল।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বরকতময় এই রজনীতে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড সত্ত্বেও জানমালের কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ও পাকা মার্কেট থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।