কিশোরগঞ্জ–১ আসনে তীব্র লড়াইয়ের আভাস, জটিল হচ্ছে ভোটের সমীকরণ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ–১ (কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুর) আসনে দিন দিন বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সম্ভাব্য ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাসে ভোটের মাঠ জমে উঠেছে, একই সঙ্গে জটিল হয়ে উঠছে নির্বাচনী সমীকরণ। বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের কর্মী–সমর্থকদের প্রচারণায় সরগরম পুরো এলাকা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮১টি এবং বুথ সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নতুন করে ৮৪৯টি গোপন কক্ষ যুক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী এই সংসদীয় আসনে দুটি পৌরসভা—কিশোরগঞ্জ ও হোসেনপুর—এবং মোট ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদরে ১১টি এবং হোসেনপুর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে শুরুতে দলের ভেতরে কিছুটা বিভক্তি দেখা দিলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঐক্যের ডাক জোরালো হচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপির সাবেক মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোরগ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিগত দুই নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে তার ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সজীব বলেন, “এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ ও মোরগ প্রতীকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।” বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় ভোটের হিসাব নতুন করে কষা হচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
এদিকে ১১ দলীয় জোটের শরিক দুইটি ইসলামী দলের প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। খেলাফত মজলিসের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদী পাল্টাপাল্টি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে ইসলামী ধারার ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে বড় দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের সুর শোনা যাচ্ছে। মান–অভিমান ভুলে নেতাকর্মীরা এক মঞ্চে আসার চেষ্টা করছেন। সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত তারিখে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।







