পাগলা মসজিদে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন
কিশোরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের নিলাম ডাকের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। মানববন্ধন থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের কালীবাড়ি চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ। এতে অংশ নেয় কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ফোরাম, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাব, কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এতে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
গতকালের ঘটনায় আহতরা হলেন—চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আলম ফয়সাল (৩৭) এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূঁইয়া পিংকু (৪২)। তারা দুজনই কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা যায়, প্রতিদিন আসরের নামাজের পর ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানের বিভিন্ন সামগ্রী নিলামে তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ নিলামকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কম দামে এসব দানের সামগ্রী কিনে আসছিল। ওই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান দুই সাংবাদিকসহ চারজন সংবাদকর্মী।
এ সময় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের লোকজন হঠাৎ করে মব সৃষ্টি করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে খায়রুল আলম ফয়সাল ও ফয়জুল ইসলাম ভূঁইয়া পিংকু গুরুতর আহত হন। পরে মসজিদের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সহায়তায় আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম ভূঁইয়া পিংকু বৃহস্পতিবার রাতে বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসিম খান বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই না সাংবাদিকদের ওপর এভাবে সন্ত্রাসী হামলা হোক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রের কাছে আমাদের আহ্বান, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছে তা ন্যাক্কারজনক। এ ধরনের ঘটনা মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য হুমকি এবং গোটা জাতির জন্য অশনিসংকেত। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্যসচিব ফয়সাল প্রিন্স বলেন, সাংবাদিকদের ওপর সিন্ডিকেট সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রশাসনের কাছে দাবি, দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঁইয়া বলেন, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম ভূঁইয়া পিংকু বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত জীবন ও মনা নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।




