শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৪ ১৪৩২
শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৪ ১৪৩২

পাগলা মসজিদে নিলামকান্ড, সাংবাদিকদের ওপর হামলা; আলোচিত জীবন মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাগলা মসজিদে নিলামকান্ড, সাংবাদিকদের ওপর হামলা; আলোচিত জীবন মিয়া

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের নিলাম থেকে গরু কিনে প্রায় এক বছরেও টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে কথিত বিএনপি নেতা মো. জীবন মিয়ার (২৮) বিরুদ্ধে। তিনি সম্প্রতি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাতেও অভিযুক্ত।

মসজিদ প্রশাসনের দাবি, গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত নিলামে দানের একটি গরু ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছিলেন জীবন মিয়া। নিলামের নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করার কথা থাকলেও তিনি কোনো টাকা দেননি। প্রায় এক বছর পার হলেও এখনো ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।

পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুবায়ের আহমেদ বলেন, গরুর টাকা আদায়ের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে টাকা না দিয়ে উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। কেউ তাকে এ বিষয়ে অবহিত করেনি। নিলামের গরু বাকিতে বিক্রি হলো কীভাবে—তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জীবন মিয়া নিজেকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য দাবি করলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পৌর সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক জানান, ওই ওয়ার্ডে বিএনপির কোনো কমিটিই নেই। কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে থাকে, তা সাংগঠনিক নয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাগলা মসজিদে দানের মালামাল নিলামের সময় জীবন মিয়ার নেতৃত্বে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আলম ফয়সাল এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূঁইয়া পিংকু গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর আহত পিংকু বাদী হয়ে জীবন মিয়াকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮–১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা জানান, মামলার পর অভিযান চালিয়ে জীবন মিয়া ও মনা নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পাগলা মসজিদের নিলাম কার্যক্রম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ ) দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলার পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় তিনি জেলার সকল পর্যায়ের অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আপোষহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

অপরাধ সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), জেলার বিভিন্ন সার্কেলের সার্কেল অফিসার, সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্প, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এবং পুলিশ লাইন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিকলীতে মাদকের টাকা না পেয়ে ঘরে আগুন, পরে যুবকের আত্মহত্যা

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
নিকলীতে মাদকের টাকা না পেয়ে ঘরে আগুন, পরে যুবকের আত্মহত্যা

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন দেওয়ার পর আত্মহত্যা করেছেন রানা (১৮) নামের এক যুবক।

নিহত রানা উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের পূর্বপাড়া নয়াহাটি গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দীনের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রানা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন করতেন। নেশার টাকা জোগাড় করতে তিনি অটোরিকশা চালাতেন। প্রায় সময়ই নেশার টাকার জন্য বড় ভাই হোসেন ও মা রাবেয়া বেগমের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। টাকা না পেলে বাড়িতে ভাঙচুরও করতেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মায়ের কাছে নেশার টাকা না পেয়ে সন্ধ্যার দিকে রানা বসতঘরে আগুন দেন। তার এমন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে মা রাবেয়া বেগম এ বিষয়ে নিকলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই শুক্রবার ইফতারের আগে কোনো একসময় বাড়ির একটি নির্জন ঘরে আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ফাঁস নেন রানা।

খবর পেয়ে নিকলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় শওকত আজিজ

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় শওকত আজিজ

আসন্ন হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রিয়তার আলোচনায় রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, দানবীর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসাসের আহ্বায়ক মো. শওকত আজিজ। তৃণমূল মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে তিনি বর্তমানে হোসেনপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

বিগত কয়েক বছরে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তরুণ এই নেতা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, একজন সমাজসেবক হিসেবেও এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন।

এলাকার সাধারণ ভোটার ও বিশিষ্টজনদের মতে, শওকত আজিজ একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবদান রাখার পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তিনি নিয়মিত ভূমিকা রেখে আসছেন।

এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান ও সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। করোনাকালীন সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ ও নগদ অর্থ সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবহেলিত এই জনপদকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট উপজেলায় রূপান্তর করতে শওকত আজিজের মতো একজন শিক্ষিত ও সাহসী নেতার প্রয়োজন। জাসাসের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি শিকড়ের টানে সবসময়ই হোসেনপুরবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন।

এ বিষয়ে শওকত আজিজ বলেন, “আমি পদ-পদবীর চেয়ে মানুষের সেবাকেই বড় করে দেখি। হোসেনপুর আমার প্রাণের জায়গা। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা গড়ার লক্ষ্যেই আমি কাজ করে যেতে চাই।”

এদিকে নির্বাচন ঘিরে এলাকায় আলোচনা বাড়তে থাকায় হোসেনপুরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় এখন তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে।