কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাবার হাতে ৭ মাস বয়সী সন্তান খুনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকায় একটি ডোবা থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা মেরাজ মিয়া (২৪) ও শিশুটির দাদি রাবেয়া বেগম (৬০) পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকদী পূর্বকান্দা হাওর এলাকার ধানক্ষেত সংলগ্ন গোলাপ মিয়ার ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর নাম তানভির ওরফে মোজাহিদ।
ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে মেরাজ মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের পুরানগাঁও এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে তাসলিমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাত মাস আগে জন্ম নেয় এই সন্তান। মেরাজ মিয়া পেশায় অটোরিকশা চালক ও জুতার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারে কলহ হতো।
প্রায় ১০ দিন আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে মেরাজকে তার মা ও ভাইয়েরা বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেখানেও দাম্পত্য কলহ চলতে থাকে।
এক সপ্তাহ আগে শিশুটির দাদি রাবেয়া বেগম তাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নানাবাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে নিজ বাড়িতে রেখে দেন এবং কয়েকদিন পর শিশুটির মাকে জানানো হয়, শিশুটিকে তার বাবা বিক্রি করে দিয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবার পুলিশকে জানায়।
অভিযোগ রয়েছে, ২২ এপ্রিল রাতে মেরাজ মিয়া শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানান, তিনি শিশুটিকে গোলাপ মিয়ার ডোবায় ফেলে এসেছেন। পরদিন সকালে স্বজনরা স্থানীয়দের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।
শিশুটির মা তাসলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে ও আমার সন্তানকে হত্যার হুমকি দিত। ২২ এপ্রিল সে ফোন করে জানায়, আমার ছেলেকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। আমার সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।