ঈদ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬ পরিবার পাবে ভিজিএফের চাল
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে গরিব, দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬টি পরিবারকে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হবে। এ জন্য সরকার মোট ৪ হাজার ৫৫০ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিটি পরিবার ঈদের আগেই ১০ কেজি করে চাল পাবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভার হতদরিদ্র পরিবারগুলো ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এই চাল পাবে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরকার প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করে থাকে। এ লক্ষ্যে ঈদের আগেই জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যাতে গ্রামের গরিব ও অসহায় পরিবারগুলো ঈদের সময় খাদ্য সংকটে না পড়ে।
কিশোরগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলার ১৩টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভায় মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬টি হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে চাল বরাদ্দসংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, জেলার ১৩টি উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়ন এবং ৮টি পৌরসভার মাধ্যমে ঈদের আগেই ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে।
পৌরসভার শ্রেণিভেদ অনুযায়ী চাল বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌরসভার প্রশাসক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করবেন এবং উপজেলা কমিটির মাধ্যমে তা বিতরণ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খাদ্য সংকটে থাকা মানুষ, দিনমজুর, গৃহহীন পরিবার এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ সহায়তা পাবেন।
ইতোমধ্যে জেলার হোসেনপুর উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ৭ হাজার ৪৪৪ জনের জন্য ৭৪.৪৪ মেট্রিক টন, জিনারী ইউনিয়নে ৪ হাজার ৬৮১ জনের জন্য ৪৬.৮১ মেট্রিক টন, সিদলা ইউনিয়নে ৬ হাজার ৩৪৭ জনের জন্য ৬৩.৪৭ মেট্রিক টন, আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৭ জনের জন্য ২০.৪৭ মেট্রিক টন, শাহেদল ইউনিয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ জনের জন্য ৩৭.৬৭ মেট্রিক টন এবং পুমদী ইউনিয়নে ৫ হাজার ৯৫৪ জনের জন্য ৫৯.৫৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হোসেনপুর পৌরসভায় ৩ হাজার ৮৫ জনের জন্য ৩০.৮৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা জানান, ভিজিএফের চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারচুপি বা মাপে কম দেওয়া বরদাশত করা হবে না। প্রত্যেক কার্ডধারী হতদরিদ্র পরিবার সঠিক মাপে ১০ কেজি করে চাল পাবে বলে তিনি জানান।




