মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ ১৪৩২

উদ্ধার হওয়া ৫০টি চোরাই মোবাইল মালিকদের হাতে তুলে দিল কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
উদ্ধার হওয়া ৫০টি চোরাই মোবাইল মালিকদের হাতে তুলে দিল কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ

কিশোরগঞ্জে উদ্ধার হওয়া চোরাই মোবাইলফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মোবাইলফোন মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, গত এক মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০টি চোরাই মোবাইলফোন উদ্ধার করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন উদ্ধার অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পদ উদ্ধারে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি বিশেষভাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তালুকদারকে সফল অভিযানের জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআইও-১ কিশোরগঞ্জ মো. সাইফুল ইসলাম, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া, পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইলফোনের মালিকরা।

হারিয়ে যাওয়া মোবাইলফোন ফিরে পেয়ে মালিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। উপস্থিত অনেকেই বলেন, পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কিশোরগঞ্জের কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার মূল ও পলাতক আসামি মো. কাউছার (২১) কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গ্রেপ্তারকৃত কাউছারের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলাতে।  শনিবার(১৪ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার (১৫ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টার দিকে র‍্যাব-১৪–এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সহকারী পরিচালক) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, মো. কাউছারের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে অবস্থানকালে গত বছরের ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে কাউছার।

ঘটনার পর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রুজু করা হয়।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামি কাউছার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর র‍্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।

দীর্ঘ তদন্ত ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৪ এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় র‍্যাব-১ উত্তরা, ঢাকার সার্বিক সহায়তায় পলাতক আসামি কাউছারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার মো. শাহজাহান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইটনায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
ইটনায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে পানিভর্তি একটি গর্তে ডুবে চার বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার(১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নর খালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত অর্ণব (৪) ওই গ্রামের বাসিন্দা শ্রাবণ মিয়ার ছেলে।

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় অর্ণবের মা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অর্ণব বাড়ির উঠানে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। খেলতে খেলতে একপর্যায়ে সে সবার অজান্তে বাড়ির সামনে থাকা পানিভর্তি একটি গর্তে পড়ে যায়।

কিছু সময় পর তাকে উঠানে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির সামনের গর্তের পানিতে অর্ণবকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে উদ্ধার করে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কিশোরগঞ্জ টিটিসিতে তাকামুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে যুবক আটক

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ টিটিসিতে তাকামুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে যুবক আটক

কিশোরগঞ্জের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-তে তাকামুল (Takamol) সার্টিফিকেট পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে গিয়ে ফোরকান নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। আটক ফোরকান ষোলশহর, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম-এর বাসিন্দা।

রবিবার (১৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত তাকামুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অন্য এক পরীক্ষার্থী সুজন ভূইয়া নামে (পাসপোর্ট নং A21347577) প্রক্সি দিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন ফোরকান। পরীক্ষার সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তার পরিচয় যাচাই করলে বিষয়টি ধরা পড়ে।

পরবর্তীতে তাকে আটক করে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে টিটিসির অধ্যক্ষ জাভেদ রহিম বলেন, কিশোরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সৌদি আরবগামী SVP (তাকামুল) কর্মসূচির আওতায় ‘লোড অ্যান্ড আনলোড ওয়ার্কার’ ও ‘প্যাকিং দ্য শেলফ’—এই দুটি অকুপেশনে প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন পরীক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরীক্ষা দিতে আসেন।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে একদল দালাল বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। শুরু থেকেই কিশোরগঞ্জ টিটিসির সব কার্যক্রম দালাল ও হয়রানিমুক্ত রাখতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে আসছি। এ কাজে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনবাংলাদেশ পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। আজকের ঘটনার মাধ্যমে দালাল ও অনৈতিক সুবিধাভোগীদের সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ টিটিসিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তাকামুল (Takamol) সার্টিফিকেট হলো সৌদি আরবে কাজের জন্য বাধ্যতামূলক স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম (SVP) বা পেশাগত দক্ষতা যাচাইয়ের সরকারি সনদ। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডারসহ বিভিন্ন ব্লু-কলার পেশার শ্রমিকদের ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য এই দক্ষতা সনদ অর্জন করা জরুরি। অনুমোদিত কেন্দ্র বা অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে এই সনদ সংগ্রহ করা যায়।

কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানান, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।