ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি: হিলচিয়ায় প্রতিবন্ধী-এতিমদের পাশে শাহ্ আলম ফাউন্ডেশন
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া এলাকায় শাহ্ আলম চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন–এর উদ্যোগে প্রতিবন্ধী, এতিম ও অসহায় নারী-পুরুষদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বার্তা নিয়ে আয়োজিত এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় হিলচিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. কবির আলম শাহ। অনুষ্ঠানে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, এতিম, বয়স্ক ও বিধবা নারীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি মুমূর্ষু রোগীদের জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিও পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিলচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়াজ মামুনুল রহমান পুটন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ বাবু রতন পাল, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের উপজেলা সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম কাজল, প্রভাষক রেজাউল রহমান রাজীব, উপজেলা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. খলিলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ মানিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ এবং ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল নিয়াজ বাহাদুর, সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার আলম আকাশ ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মামুনসহ অন্যান্য সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০ জন অতিদরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষের মাঝে আধা কেজি সয়াবিন তেল, এক কেজি চিনি, এক কেজি চালের গুঁড়া, সেমাই, নুডলস ও গোসলের সাবানসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; যথাযথ সুযোগ, সহায়তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় তাদের সমঅধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু সহায়তা প্রদানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে এবং অসহায় মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহল এগিয়ে এলে একটি সমতা ও মানবিকতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।







