রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২

রাজনীতি, মামলা আর ক্রিকেট—সাকিবকে ফেরানোর জটিল সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
রাজনীতি, মামলা আর ক্রিকেট—সাকিবকে ফেরানোর জটিল সমীকরণ

সাকিব আল হাসান আগেও দেশে ফিরে জাতীয় দলে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। ফারুক আহমেদ বোর্ড সভাপতি থাকার সময় থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাঁকে ফেরাতে চাইলেও এখন পর্যন্ত সফল হয়নি। তবে এবার প্রকাশ্যেই সাকিবকে জাতীয় দলের জন্য বিবেচনায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। পাশাপাশি তাঁর ফেরার একটি সময়ও নির্ধারণ করেছে বোর্ড। আগামী মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর ইচ্ছা বিসিবির।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব। ওই বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি চেয়েছিলেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে। কিন্তু তত দিনে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ায় দেশে এলে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি বিরোধীদের রোষানলে পড়ার ভয়ও ছিল। ফলে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন বোর্ড চাইলেও সাকিবের সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি।

বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের বোর্ডেও শুরু থেকেই সাকিবকে ফেরানোর আকাঙ্ক্ষা ছিল। পরিচালকদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও প্রথমবারের মতো ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয়।

সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ফর্ম ও ফিটনেস সন্তোষজনক হলে সাকিবকে আবার জাতীয় দলে বিবেচনায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

সাকিবকে ফেরানোর প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে আসিফ আকবর প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের বোর্ড সভাপতি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমরা আশা করছি, আগামী মার্চে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই সাকিবকে আবার জাতীয় দলে দেখা যাবে।’

এই সিরিজই কি সাকিবের শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সাকিব দেশের হয়ে আবার খেলুক এবং সেটা এই পাকিস্তান সিরিজ থেকেই। এরপর সে খেলা চালিয়ে যাবে কি না, সেটা পুরোপুরি তার সিদ্ধান্ত।’

বাংলাদেশে পাকিস্তান দলের সফরটি দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে তারা দেশে ফিরে যাবে। এরপর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পিএসএল শেষ করে মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আবার বাংলাদেশে আসবে।

বিসিবির সঙ্গে সাকিবের যোগাযোগ শুরু হয় প্রায় এক মাস আগে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড পরিচালক জানান, সাকিব নিজেই আবার দেশের হয়ে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘সরকারে কিছু পরিবর্তন আসায় সে হয়তো আত্মবিশ্বাসী হয়েছে। সে খুব আগ্রহ দেখিয়েছে যে এবার কিছু হতে পারে।’

বিসিবির ধারণা, জাতীয় দলের হয়ে সাকিবের খেলায় কোনো বাধা থাকা উচিত নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাঁর অবদান বিবেচনায় নিয়ে দেশের মাটিতে খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মনে করে বোর্ড।

যদিও সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা এখনো বহাল রয়েছে। তবে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সরকারে না থাকায় বড় কোনো বাধা আসবে না বলে বিশ্বাস বিসিবির। বর্তমানে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল একই সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকায় বিসিবির পক্ষে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের মনোভাবও ইতিবাচক বলে মনে করছে বিসিবি।

তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় খুব বেশি নেই। এত অল্প সময়ের মধ্যে সাকিবের ফেরার প্রক্রিয়া কতটা মসৃণ হবে—এ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এক বোর্ড পরিচালক বলেন, ‘মার্চের আগে এখনো যথেষ্ট সময় আছে। নির্বাচনের পর বিষয়টি আরও সহজও হতে পারে।’

বিসিবির সিদ্ধান্ত জানার পর নিউইয়র্কে অবস্থানরত সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও স্পষ্টভাবে জানান, দেশের হয়ে আবার খেলতে চান। সরকারের সঙ্গে বিসিবির আলোচনার মাধ্যমে দেশে ফেরা ও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদী সাকিব। পাকিস্তান সিরিজকেই আপাতত পাখির চোখ করছেন তিনি।

পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাসের নেতৃত্বে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাকুন্দিয়া থানা এবং পৌরসদর বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রোভার স্কাউটের সদস্যরা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাজিতপুরে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাজিতপুরে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমন্বিত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় মশা নিধন মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটিয়ে মশা দমন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, বাজিতপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. সোহাগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজাহান সিরাজসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অভিযান চলাকালে কর্মকর্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

“নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়া বাজার ব্রিজসংলগ্ন শাপলা চত্বরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় শহরের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগাম সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে জন্মায় উল্লেখ করে তারা বাসাবাড়ি, ছাদ, বাগান ও আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখার পরামর্শ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, প্রতি শনিবার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, এডিস মশা মূলত দিনের বেলাতেই বেশি কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহারসহ ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারও জ্বর দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়। জ্বর কমে গেলেও ডেঙ্গুর জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাড়ি না ফেরার পরামর্শ দেন তারা।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভা জানায়, এই কর্মসূচির আওতায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফগিং, লার্ভিসাইড স্প্রে, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।