হোসেনপুরে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় উঠতি বোরো ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে স্বল্প সময়ের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় উঠতি বোরো ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে জমিতে পানি জমে যায় এবং উঠতি ধান গাছের ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।
উপজেলার জিনারী এলাকার কৃষক সামসুল হক ও চর হাজীপুর এলাকার রুকন উদ্দিন জানান, তারা চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে দুই একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। পরিবারের ভরণপোষণ ও সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় এই ধানের ওপর নির্ভরশীল। তবে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এদিকে বরশিকুড়া গ্রামের সঞ্জিত চন্দ্র শীল ও হলিমা গ্রামের আবদুল কাইয়ুমসহ অনেক কৃষক জানান, মৌসুমের শুরুতে হালকা বৃষ্টি ফসলের জন্য উপকারী হলেও পরবর্তী শিলাবৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে এবং শিল পড়ে উঠতি ধানের ক্ষতি হয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আবার বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চরাঞ্চলের বোরো ধানের গাছে এখনো থোড় আসেনি এবং গাছগুলো নরম অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় শিলাবৃষ্টির আঘাতে গাছের ক্ষতি বেশি হয়েছে। এছাড়া জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ধান গাছের নিচের অংশ পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, শিলাবৃষ্টির পানি অত্যন্ত ঠান্ডা হওয়ায় জমিতে দীর্ঘ সময় থাকলে গাছ পচে যেতে পারে। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ কয়েক দিন পর স্পষ্ট হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানক্ষেতে কমবেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এখনো হয়নি।
উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ উপজেলায় এবার প্রায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ হেক্টর জমির ফসল শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সঠিক তথ্য পেতে আরও এক-দুই দিন সময় লাগবে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং জমির পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমে যাবে।




