বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

সতর্কবার্তাঃ ১১ দলে নেই চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সতর্কবার্তাঃ ১১ দলে নেই চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত ‘১১ দলীয় জোট’ বা সমঝোতা থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অনেক আগেই নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে এখনো বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে ১১ দল সংশ্লিষ্ট সংবাদের ফটোকার্ডে দলটির লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহবিষয়ক সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের লোগো ব্যবহার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১১ দলীয় সমঝোতা থেকে সরে আসার প্রধান কারণ ছিল ‘শরিয়াহ’ প্রশ্নে জোটের অস্পষ্টতা এবং নীতিগত অবস্থান থেকে বিচ্যুতি। এই আদর্শিক পার্থক্যের কারণেই ইসলামী আন্দোলন জোট ত্যাগ করে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ২৫৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনের পর থেকে দলটির রাজনৈতিক পথ সম্পূর্ণ আলাদা এবং বর্তমানে ওই ১১ দলের সঙ্গে তাদের কোনো যৌথ কর্মসূচি নেই বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হয়েছে, কিছু গণমাধ্যম এখনো ১১ দল সম্পর্কিত সংবাদের সঙ্গে তাদের লোগো ব্যবহার করছে, যা কেবল ভুল তথ্যই নয়, বরং সাধারণ সমর্থকদের মাঝেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বর্তমানে নিজস্ব নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে এককভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ১১ দলের কোনো সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি বা বিবৃতির দায়ভার তাদের ওপর বর্তাবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ফটোকার্ড বা গ্রাফিক্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার চার আসামিকে বিভিন্ন অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরি, মাদক রাখা এবং ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ক্যাবল চুরির সময় স্থানীয় জনতা আসলাম খান (৪০) নামে একজনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পালিয়াকান্দা গ্রামের তৌহিদ মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০), চাঁদপুর সদর উপজেলার বাকরপুর এলাকার চান খানের ছেলে আসলাম খান (৪০), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার গজারিয়া এলাকার খুরশেদ আলমের ছেলে রাকিব মিয়া (২০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কালিকাপুর এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিন (১৯)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের ছাদে উঠে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির অপরাধে সালাউদ্দিন ও রাকিবকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। ক্যাবল চুরির অপরাধে আসলাম খানকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন মিয়ার কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ অপরাধে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ জানান, রেললাইনের পাশ থেকে ক্যাবল চুরির সময় স্থানীয়দের সহায়তায় আসলাম খানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অন্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ বিল পাস

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ বিল পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। বিলটি পাসের আগে এ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

আলোচনায় অংশ নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিলের কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিলে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বোঝানো হয়েছে, যা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সংঘটিত অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিস্বার্থে সংঘটিত সহিংস ঘটনাকে একই কাঠামোর মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যক্রমের যথাযথ মূল্যায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে তিনি মত দেন।

এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আপত্তি উত্থাপিত হলেও তা নাকচ করে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস করা হয়।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এ আইনের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় নির্ধারণের একটি আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

সরারচর বাজারে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযান, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
সরারচর বাজারে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযান, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সরারচর বাজারের হাজী মোহাম্মদ গোলাপ ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকার সঙ্গে পণ্যের দামের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। এছাড়া পণ্য ক্রয়ের বৈধ ভাউচার ও রসিদ প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. মশিউর রহমানকে নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম। এ সময় বাজিতপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আমির খসরুসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল সাহা জানান, অনেক ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও মৌলভীবাজার থেকে দালালের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ করেন, যেখানে সবসময় বৈধ ভাউচার পাওয়া যায় না। তবে তাদের নিজস্ব খাতায় লেনদেনের হিসাব সংরক্ষিত থাকে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে দুলাল সাহার ছেলে দিব্য সাহা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি গাড়ি পণ্য আনতে দালালদের প্রায় ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়; অন্যথায় সময়মতো মালামাল সরবরাহ পাওয়া যায় না।

অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “মূল্যতালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি না করা এবং বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ না করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে বাজারে মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজার তদারকি জোরদার করা হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।