শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে অম্লান: কটিয়াদীতে বিএনপির আলোচনা সভা
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের প্রণেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার স্বপ্নকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জায়দুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান কাঞ্চন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সৈয়দ সামসুল আরেফিন তারা ও মো. আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক চাঁন মিয়া মাস্টার, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আজিজুল হক শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মাসুদ ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস আলী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান ও সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ প্রিন্স, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মুশফিকুর রহমান উবায়দুর এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তসরিফুল হাসিবসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক। স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যুবসমাজকে কর্মমুখী করে তোলা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে শহীদ জিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ আজও দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ছিলেন আপসহীন।
বক্তারা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুদুল আলম মাসুদ।
দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও অতিথিদের মাঝে মিষ্টি ও তবারক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।







