ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে হোসেনপুরে প্রশাসনের অভিযান
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ভ্রাম্যমাণ তদারকি ও সতর্কতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পাওয়ায় একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে হোসেনপুর-গফরগাঁও ও মাওনাগামী যাত্রীবাহী সিএনজি স্টেশন এবং উপজেলার ব্যস্ততম মিষ্টিপট্টি চৌরাস্তা এলাকায় সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও হোসেনপুর পৌরসভার প্রশাসক মোহসী মাসনাদ।
জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বাড়তি যাত্রীচাপের সুযোগ নিয়ে কিছু সিএনজি চালক নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পৌঁছালে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজেই বিভিন্ন স্টেশনে উপস্থিত হয়ে চালক, যাত্রী এবং পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন।
অভিযানকালে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করে হোসেনপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় মোহসী মাসনাদ সিএনজি চালকদের সতর্ক করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। সরকার নির্ধারিত ও যৌক্তিক ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে প্রশাসন মাঠে কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, চাঁদাবাজি কিংবা যাত্রী হয়রানির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে আমাদের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
পরিদর্শনের সময় তিনি যানজট পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও সার্বিক নজরদারি জোরদারের কথাও জানান তিনি।
অভিযানকালে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া হোসেনপুর থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
একই সঙ্গে বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দোকানেও তদারকি চালানো হয়। ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করছেন কি না, খাদ্যের মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলা হয়, ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মুনাফা আদায় কিংবা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ সময় পৌরসভা কার্যসম্পাদন সহায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান জিকোসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানজট, বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




