করিমগঞ্জে মোবাইল চুরির অপবাদে ফুফাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের সাঁতারপুর গ্রামে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফুফাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মো. অপু মিয়া (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত সীমান্ত মিয়া (১৫)কে আটক করে স্থানীয় লোকজন পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
নিহত অপু মিয়া সাঁতারপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। আটক সীমান্ত একই গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে এবং নিহত অপুর ফুফাতো ভাই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সীমান্তের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় সে অপুকে সন্দেহ করে এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সালিসে অপুর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। এরপরও সীমান্ত তার সন্দেহ থেকে সরে আসেনি।
মঙ্গলবার দুপুরে সাঁতারপুর বাজারসংলগ্ন একটি সেতুর কাছে সীমান্ত অপুকে ডেকে নেয়। সেখানে মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সীমান্ত সঙ্গে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে অপুর পেটে আঘাত করে। গুরুতর আহত হয়ে অপু ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। অপরদিকে গুরুতর আহত অপুকে দ্রুত উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, সালিসে নির্দোষ ঘোষণার পরও সীমান্ত বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি এবং কয়েক দিন ধরে এ নিয়ে দুই কিশোরের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
করিমগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুবীর কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।







