ইটনায় পূর্ব বিরোধের জেরে সশস্ত্র হামলায় ব্যাপক ভাঙচুর, আহত কয়েক নারী
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা এলাকায় পূর্ব শত্রুতা ও মামলা-মোকদ্দমার জেরে একাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় বাধা দিতে গেলে বাড়ির মালিকসহ অন্তত চার নারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৬ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়ন পাথারকান্দি মাইজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা রফিকুল ইসলাম, মেনু মিয়া, শারজুল, আনিফা আক্তার, ওহাব, মিজাজুল, তাজু ও জিয়নের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. আনিফা আক্তার (৫৬) বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ইটনা থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথারকান্দি মাইজপাড়া গ্রামের আনিফা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় সৈয়ব আলী (৫৫), খোকন মিয়া ওরফে লাল খোকন (৪৫), মোশারফ মিয়া (৩০) ও সাইকুল মিয়াদের (৬০) দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
গত ৩ জুন বিবাদী মোশারফ মিয়ার মামা উজ্জল মিয়া মারা গেলে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ আদালত-এ একটি সি.আর মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের আদেশে গত ২৫ জুন মামলাটি ইটনা থানা-এ এফআইআর (মামলা নং-১০) হিসেবে নথিভুক্ত হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মামলার পর থেকেই প্রতিপক্ষ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এরই জেরে ২৬ জুন রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, লোহার রড, হ্যামার ও শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আনিফা আক্তারের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের টিনের চাল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় বাড়িতে থাকা নারীরা বাধা দিলে তাদের ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়। আহতরা হলেন— আনিফা আক্তার, দোলেনা, মাহমুদা ও জুনুবা।
আহতদের মধ্যে দোলেনাকে লোহার রড ও রামদা দিয়ে আঘাত করায় তার মাথা, ঘাড়, কোমর ও পায়ে গুরুতর জখম হয় বলে পরিবারটির দাবি। এছাড়া মাহমুদা নামের আরেক নারীকে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে।
পরে আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইটনা থানা-র অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রোকনুজ্জান বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে বাদলা পুলিশ ফাঁড়ি-র উপপরিদর্শক সামাদ বলেন, “আমরা পুলিশের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”





Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array