ভৈরবে মাদক কারবারিদের মদদ ও সাধারণদের হয়রানির অভিযোগ বুলবুলের বিরুদ্ধে
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বুলবুল মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়, মাদক কারবারিদের মদদ দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মানিক মিয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন বুলবুল মিয়া। তাঁর ভাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং নিকটাত্মীয় পুলিশের এসপি পদে রয়েছেন—এমন পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব পরিচয়ের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শ্রীনগর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বুলবুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছেন। অতীতেও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় চাঁদাবাজি করেছেন বলে তাঁর দাবি। এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে পুলিশি হয়রানির পেছনেও বুলবুলের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাকির হোসেন আরও বলেন, বুলবুল পুলিশের নামে নিয়মিত টাকা আদায় করেন—এ বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথিপত্র বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শ্রীনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব শিপন মিয়া বলেন, বুলবুল মিয়াকে ছাড়া পুলিশ দলীয় নেতাকর্মীদের চেনে না, এমনকি চেনার চেষ্টাও করে না। তাঁর অভিযোগ, এই সুযোগে বুলবুল পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এলাকার মানুষকে হয়রানি করেন। তুচ্ছ ঘটনাও প্রশাসন পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে দাবি করেন শিপন মিয়া। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলাকার কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে বুলবুলের মাধ্যমে তথ্য না নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও যাচাই করা উচিত।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, শ্রীনগর গ্রামে পুলিশ প্রবেশ করলে বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়—এমন আলোচনা এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। তাঁদের দাবি, পুলিশের অভিযানের আগাম তথ্য দিয়ে তিনি মাদক কারবারিদের দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে মামলা দেওয়া বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগ অস্বীকার করে বুলবুল মিয়া বলেন, পুলিশ তাঁর গ্রামে প্রবেশ করলে তাঁকে ফোন করে-এটি সত্য। তবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা টাকা আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, বুলবুলের কর্মকাণ্ডে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। তাঁর অভিযোগ, বুলবুল থানা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে আসামি ছাড়িয়ে নেওয়া ও ধরিয়ে দেওয়ার কাজ করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তোয়াক্কা না করে তিনি এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন বলেও দাবি করেন মানিক মিয়া। তাঁর ভাষ্য, প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করেন বুলবুল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে তাঁকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী দৌলত মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বুলবুল টাকার বিনিময়ে পুলিশকে ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করে দেন। তাঁর দাবি, চুরি হওয়া একটি মোবাইল ফোন পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে উদ্ধার করে দিয়েছিলেন বুলবুল।
আরেক বাসিন্দা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, তাঁর ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বুলবুল তাঁর ছেলের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। ভয়ে তাঁর স্ত্রী বুলবুলকে পাঁচ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুলবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, পুলিশের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে, অন্যদিকে মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করে। এ পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।










Disqus comments are not configured yet.