সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ভৈরবে মাদক কারবারিদের মদদ ও সাধারণদের হয়রানির অভিযোগ বুলবুলের বিরুদ্ধে

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে মাদক কারবারিদের মদদ ও সাধারণদের হয়রানির অভিযোগ বুলবুলের বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বুলবুল মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়, মাদক কারবারিদের মদদ দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মানিক মিয়া।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন বুলবুল মিয়া। তাঁর ভাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং নিকটাত্মীয় পুলিশের এসপি পদে রয়েছেন—এমন পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব পরিচয়ের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শ্রীনগর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বুলবুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছেন। অতীতেও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় চাঁদাবাজি করেছেন বলে তাঁর দাবি। এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে পুলিশি হয়রানির পেছনেও বুলবুলের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জাকির হোসেন আরও বলেন, বুলবুল পুলিশের নামে নিয়মিত টাকা আদায় করেন—এ বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথিপত্র বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শ্রীনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব শিপন মিয়া বলেন, বুলবুল মিয়াকে ছাড়া পুলিশ দলীয় নেতাকর্মীদের চেনে না, এমনকি চেনার চেষ্টাও করে না। তাঁর অভিযোগ, এই সুযোগে বুলবুল পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এলাকার মানুষকে হয়রানি করেন। তুচ্ছ ঘটনাও প্রশাসন পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে দাবি করেন শিপন মিয়া। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলাকার কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে বুলবুলের মাধ্যমে তথ্য না নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও যাচাই করা উচিত।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, শ্রীনগর গ্রামে পুলিশ প্রবেশ করলে বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়—এমন আলোচনা এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। তাঁদের দাবি, পুলিশের অভিযানের আগাম তথ্য দিয়ে তিনি মাদক কারবারিদের দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে মামলা দেওয়া বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগ অস্বীকার করে বুলবুল মিয়া বলেন, পুলিশ তাঁর গ্রামে প্রবেশ করলে তাঁকে ফোন করে-এটি সত্য। তবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা টাকা আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, বুলবুলের কর্মকাণ্ডে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। তাঁর অভিযোগ, বুলবুল থানা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে আসামি ছাড়িয়ে নেওয়া ও ধরিয়ে দেওয়ার কাজ করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তোয়াক্কা না করে তিনি এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন বলেও দাবি করেন মানিক মিয়া। তাঁর ভাষ্য, প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করেন বুলবুল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে তাঁকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজী দৌলত মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বুলবুল টাকার বিনিময়ে পুলিশকে ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করে দেন। তাঁর দাবি, চুরি হওয়া একটি মোবাইল ফোন পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে উদ্ধার করে দিয়েছিলেন বুলবুল।

আরেক বাসিন্দা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, তাঁর ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বুলবুল তাঁর ছেলের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। ভয়ে তাঁর স্ত্রী বুলবুলকে পাঁচ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুলবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, পুলিশের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে, অন্যদিকে মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করে। এ পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্যকারীদের বিএনপিতে স্থান হবে না: জালাল উদ্দিন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্যকারীদের বিএনপিতে স্থান হবে না: জালাল উদ্দিন

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিএনপিতে কোনো স্থান হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর পক্ষে কাজ করতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে; প্রয়োজনে বহিষ্কারও করা হতে পারে।

রোববার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।

অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দলে কোনো স্থান দেওয়া হবে না। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সম্মানজনক অবস্থানে রাখার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, একই পদে একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে দলীয় প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাইকে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে এবং নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল তাঁর দায়ভার নেবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।

মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জালাল উদ্দিন বলেন, এবার কেউ মনোনয়ন না পেলেও তাঁর রাজনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে যাবে না। ধৈর্য ধরে দলের জন্য কাজ করতে হবে এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। ভবিষ্যতে তাঁদেরও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত প্রত্যাশার চেয়ে দলের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় জোরদার এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন। সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ডা. জহর লাল সাহা, সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য গোলাম ফারুক চাষী, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, শফিকুর রহমান বাদল, শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ, সৈয়দ আরেফিন তারা, মো. শহিদুল্লাহ ও আতিকুর রহমান আতিক।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিঠু, শফিকুল ইসলাম ফুলু ও শামসুল হক চাঁন মিয়া মাস্টার; সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ আলী; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল হক শাহজাহান; কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান বাচ্চু; যুববিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাসুদ; ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক তাসরিফুল হাসিব; শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ; স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মো. ইলিয়াস আলী; সহযুববিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেতু এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. সানা উল্লাহ, বাবু জীবন চন্দ্র দাস, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল ইসলাম সেবক, সাইফুল মতিন জুয়েল, হাদিউল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া শ্যামল, মোবারক হোসেন, আব্দুল কুদ্দুছ রতন ও ইলিয়াস কাঞ্চন ভূঁইয়া শরিফসহ উপজেলা বিএনপির অন্যান্য নেতারা।

দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি, তাড়াইলে শাড়ি পেলেন অসচ্ছল নারীরা

রুহুল আমিন প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি, তাড়াইলে শাড়ি পেলেন অসচ্ছল নারীরা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় হরিজন ও জেলে সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র নারীদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উৎসব উপলক্ষে নতুন শাড়ি পেয়ে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগী নারীরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এসব শাড়ি বিতরণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকারভোগী নারীদের হাতে শাড়ি তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার।

এ সময় ধলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফরোজ আলম ঝিনুক, রাউতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন তারিক, জাওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক রতন এবং দামিহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একে মাইনুজ্জামান নবাব উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শাড়ি পেয়ে উপকারভোগী নারীরা আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁদের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাব

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইশরাক। এ সময় গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার ঘণ্টিঘরে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। অভিযানে নিজের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কারণ, মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের দাবি এবং অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কেও বক্তব্য দেন ইশরাক।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাকের কর্মী-সমর্থকদের স্লোগান ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে।
ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর মতে, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য মাদক নির্মূল হলেও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, এ পরিস্থিতিতে সরকারের কর্মকাণ্ড আড়ালে পড়ে যাচ্ছে এবং দলও বিব্রত হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। ইশরাকের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে কাজ করতে বলেছেন। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবারও জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইশরাক বলেন, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঘণ্টিঘর এলাকার মাদক সমস্যা সমাধানে তিনি একাধিকবার পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ঢাকা-৬ আসনের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মাসিক বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সরবরাহের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি অভিযানে অংশ নেন।
ইশরাক জানান, ওই এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাবও এসেছিল। এ বিষয়ে তিনি আধা-সরকারি পত্রের (ডিও লেটার) মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন। ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার পরও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সর্বশেষ বৈঠকে ঘণ্টিঘর এলাকার মাদক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশের জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশকে সঙ্গে করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এলাকাটি মাদকমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইশরাকের ভাষ্য, গত ১২ আগস্ট ওই এলাকায় মাদকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন বলে তাঁরা জানতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অভিযানের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযানের সময় নিজের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বিষয়ে ইশরাক বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য তাঁর বৈধ লাইসেন্স করা একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অভিযানের সময় সরকারের দেওয়া নিরাপত্তাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর দাবি, অভিযানের স্থানে প্রবেশের পর ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দলকে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তখন আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তিনি নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র হাতে নেন। ইশরাক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁর হাতে অস্ত্র দেখা গেলেও পরে তিনি সেটি পকেটে রেখে দেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁরা পায়ে হেঁটে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। এ সময় গেন্ডারিয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয় এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান বলে জানান তিনি।
ইশরাকের দাবি, অভিযানের সময় কয়েকটি ভবনে তল্লাশি চালিয়ে চুরি বা ছিনতাই করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে—এমন অনেক মোবাইল ফোন, স্কুলব্যাগভর্তি মোবাইল ফোন, প্রায় ৩০০ গ্রাম হেরোইনের প্যাকেট, কয়েক বোতল মদ এবং চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাঁর ভাষ্য, পুলিশের উপস্থিতিতে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে থাকা ব্যক্তিরা বাড়ির মালিকানা এবং উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।
ইশরাক বলেন, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিচার নিশ্চিত করা। অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়। পরে মাদক সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী স্থাপনাগুলো তাঁর সঙ্গে থাকা স্বেচ্ছাসেবকেরা ভেঙে দেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন ইশরাক। উদ্ধার হওয়া আলামতও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইশরাক বলেন, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদক নির্মূল করা। কিন্তু গণমাধ্যমের একটি অংশ অস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশ করায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধটা তো মাদকের বিরুদ্ধে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই, দলীয় কোনো স্বার্থ নেই, রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ নেই।’
ইশরাকের দাবি, ঘণ্টিঘর এলাকায় শুধু মাদক সেবন নয়, মাদক সরবরাহের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ফজলুল হক মহিলা কলেজ, গেন্ডারিয়া কলেজ ও মনিজা রহমান কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক সরবরাহের অভিযোগও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইশরাক বলেন, মাদকের মূল সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করা ছাড়া এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। শুধু রাস্তার পর্যায়ের বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে স্থায়ী সমাধান হবে না। এ জন্য মাদকের মূল সরবরাহকারী ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
অভিযানের মাধ্যমে কারও ক্ষতি হয়ে থাকলে বা কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন ইশরাক। তবে নিজের নিরাপত্তার প্রয়োজনে যতটুকু সময় দরকার ছিল, ততটুকু সময়ই অস্ত্র হাতে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কোনো ভুল করেননি বলেও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ইশরাক।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী লড়াই দীর্ঘমেয়াদি। এ লড়াই চালিয়ে যেতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।