রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৮ ১৪৩২
রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৮ ১৪৩২

কটিয়াদীতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় বড় ভাই ও ভাবী গ্রেপ্তার; ভাতিজা পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় বড় ভাই ও ভাবী গ্রেপ্তার; ভাতিজা পলাতক

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ছোট ভাই মাহমুদুর রহমান কামাল মেম্বার (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় বড় ভাই জালাল উদ্দিন মাস্টার (৫৯) ও তাঁর স্ত্রী শামসুনাহার বেগম (৫৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত কামাল মেম্বার উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামের মৃত খোরশেদ উদ্দিনের ছেলে। তিনি আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই জালাল উদ্দিনের সঙ্গে কামাল মেম্বারের বিরোধের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় জালাল উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দ্বারা কামাল মেম্বার ও তাঁর ছেলে কাকন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের ঢাকায় বদলি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কামাল মেম্বার মারা যান।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান ও ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খানের সঙ্গে ফোনালাপে জানা যায়, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের মেয়ে ইসরাত জাহান বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জালাল উদ্দিন মাস্টার ও তাঁর স্ত্রী শামসুনাহার বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ঘটনার কারণ জমিসংক্রান্ত বিরোধ হলেও কিছু গণমাধ্যমে এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত কামাল মেম্বারের পরিবার এলাকায় রাজনৈতিকভাবে ঐতিহ্যবাহী পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাঁর পিতা মৃত খোরশেদ উদ্দিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নিহত কামাল মেম্বারও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অভিযুক্ত বড় ভাই জালাল উদ্দিন মাস্টার শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁর ছেলে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গত বছর তিনি জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে যোগ দেন বলে জানা গেছে। তবে এ তথ্যের কোনো কাগুজে প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার(৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মাহমুদুর রহমান কামাল মেম্বারের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসী শোকাহত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।