কটিয়াদীতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় বড় ভাই ও ভাবী গ্রেপ্তার; ভাতিজা পলাতক
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ছোট ভাই মাহমুদুর রহমান কামাল মেম্বার (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় বড় ভাই জালাল উদ্দিন মাস্টার (৫৯) ও তাঁর স্ত্রী শামসুনাহার বেগম (৫৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত কামাল মেম্বার উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামের মৃত খোরশেদ উদ্দিনের ছেলে। তিনি আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই জালাল উদ্দিনের সঙ্গে কামাল মেম্বারের বিরোধের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় জালাল উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দ্বারা কামাল মেম্বার ও তাঁর ছেলে কাকন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের ঢাকায় বদলি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কামাল মেম্বার মারা যান।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান ও ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খানের সঙ্গে ফোনালাপে জানা যায়, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের মেয়ে ইসরাত জাহান বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জালাল উদ্দিন মাস্টার ও তাঁর স্ত্রী শামসুনাহার বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনার কারণ জমিসংক্রান্ত বিরোধ হলেও কিছু গণমাধ্যমে এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত কামাল মেম্বারের পরিবার এলাকায় রাজনৈতিকভাবে ঐতিহ্যবাহী পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাঁর পিতা মৃত খোরশেদ উদ্দিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নিহত কামাল মেম্বারও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অভিযুক্ত বড় ভাই জালাল উদ্দিন মাস্টার শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁর ছেলে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গত বছর তিনি জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে যোগ দেন বলে জানা গেছে। তবে এ তথ্যের কোনো কাগুজে প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার(৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মাহমুদুর রহমান কামাল মেম্বারের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসী শোকাহত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array