বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কটিয়াদীতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় বড় ভাই ও ভাবী গ্রেপ্তার; ভাতিজা পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় বড় ভাই ও ভাবী গ্রেপ্তার; ভাতিজা পলাতক

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ছোট ভাই মাহমুদুর রহমান কামাল মেম্বার (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় বড় ভাই জালাল উদ্দিন মাস্টার (৫৯) ও তাঁর স্ত্রী শামসুনাহার বেগম (৫৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত কামাল মেম্বার উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামের মৃত খোরশেদ উদ্দিনের ছেলে। তিনি আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই জালাল উদ্দিনের সঙ্গে কামাল মেম্বারের বিরোধের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় জালাল উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দ্বারা কামাল মেম্বার ও তাঁর ছেলে কাকন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের ঢাকায় বদলি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কামাল মেম্বার মারা যান।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান ও ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খানের সঙ্গে ফোনালাপে জানা যায়, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের মেয়ে ইসরাত জাহান বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জালাল উদ্দিন মাস্টার ও তাঁর স্ত্রী শামসুনাহার বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ঘটনার কারণ জমিসংক্রান্ত বিরোধ হলেও কিছু গণমাধ্যমে এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত কামাল মেম্বারের পরিবার এলাকায় রাজনৈতিকভাবে ঐতিহ্যবাহী পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাঁর পিতা মৃত খোরশেদ উদ্দিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নিহত কামাল মেম্বারও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অভিযুক্ত বড় ভাই জালাল উদ্দিন মাস্টার শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁর ছেলে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গত বছর তিনি জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে যোগ দেন বলে জানা গেছে। তবে এ তথ্যের কোনো কাগুজে প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার(৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মাহমুদুর রহমান কামাল মেম্বারের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসী শোকাহত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।