ভৈরবে অননুমোদিত ফ্লোটিং পাম্পে লাখো লিটার জ্বালানি বিক্রি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যমুনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি থেকে প্রতিদিন ৮–৯টি অননুমোদিত ফ্লোটিং পাম্পের মাধ্যমে ৪ থেকে ৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, পাশাপাশি বাড়ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই এসব ভাসমান পাম্প ভৈরব থেকে নবীনগর, রায়পুরা ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাটবাজারে ঢালা তেল সরবরাহ করছে। এসব পাম্পের নেই কোনো তেল কোম্পানির অনুমোদন, নেই বিস্ফোরক ও ফায়ার লাইসেন্স, নেই নৌ মন্ত্রণালয় বা বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন। শুধু ‘রূপসী বাংলা’ নামে একটি পাম্প অনুমোদিত; বাকিগুলো পুরোপুরি অবৈধ।
বিআইডব্লিউটিএ’র একজন কর্মকর্তা সত্যতা স্বীকার করে জানান, অচিরেই এসব পাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভৈরব নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ ও প্রশাসনকে সাথে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্টিলবডির ছোট নৌকার ওপর ছাদ ও নিচে ট্যাংকি বসিয়ে স্যালো মেশিনচালিত মিটারের মাধ্যমে খোলা জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এক নৌকার মাঝি ওয়ালী উল্লাহ বলেন, “নৌকার কোনো কাগজপত্র নেই। ভৈরব থেকে তেল নিয়ে নবীনগরে দোকানিদের কাছে বিক্রি করি।”
এক পাম্প মালিকের ভাই তানভির বলেন, “অনুমোদনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ-তে আবেদন করেছি। গত এক বছর ধরে তেল বিক্রি করছি।”
বিআইডব্লিউটিএ বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম মিয়া জানান, ভৈরব থেকে বাজিতপুর, নিকলী ও নবীনগর পর্যন্ত মোট ৮–৯টি ফ্লোটিং পাম্প পরিচালিত হচ্ছে। রূপসী বাংলা ছাড়া সকল পাম্পই অবৈধ এবং শুধু ট্রেড লাইসেন্সের ওপর চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।









