শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ভৈরবে অননুমোদিত ফ্লোটিং পাম্পে লাখো লিটার জ্বালানি বিক্রি

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে অননুমোদিত ফ্লোটিং পাম্পে লাখো লিটার জ্বালানি বিক্রি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যমুনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি থেকে প্রতিদিন ৮–৯টি অননুমোদিত ফ্লোটিং পাম্পের মাধ্যমে ৪ থেকে ৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, পাশাপাশি বাড়ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই এসব ভাসমান পাম্প ভৈরব থেকে নবীনগর, রায়পুরা ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাটবাজারে ঢালা তেল সরবরাহ করছে। এসব পাম্পের নেই কোনো তেল কোম্পানির অনুমোদন, নেই বিস্ফোরক ও ফায়ার লাইসেন্স, নেই নৌ মন্ত্রণালয় বা বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন। শুধু ‘রূপসী বাংলা’ নামে একটি পাম্প অনুমোদিত; বাকিগুলো পুরোপুরি অবৈধ।

বিআইডব্লিউটিএ’র একজন কর্মকর্তা সত্যতা স্বীকার করে জানান, অচিরেই এসব পাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভৈরব নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ ও প্রশাসনকে সাথে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্টিলবডির ছোট নৌকার ওপর ছাদ ও নিচে ট্যাংকি বসিয়ে স্যালো মেশিনচালিত মিটারের মাধ্যমে খোলা জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এক নৌকার মাঝি ওয়ালী উল্লাহ বলেন, “নৌকার কোনো কাগজপত্র নেই। ভৈরব থেকে তেল নিয়ে নবীনগরে দোকানিদের কাছে বিক্রি করি।”

এক পাম্প মালিকের ভাই তানভির বলেন, “অনুমোদনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ-তে আবেদন করেছি। গত এক বছর ধরে তেল বিক্রি করছি।”

বিআইডব্লিউটিএ বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম মিয়া জানান, ভৈরব থেকে বাজিতপুর, নিকলী ও নবীনগর পর্যন্ত মোট ৮–৯টি ফ্লোটিং পাম্প পরিচালিত হচ্ছে। রূপসী বাংলা ছাড়া সকল পাম্পই অবৈধ এবং শুধু ট্রেড লাইসেন্সের ওপর চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

১২ দিনের চাহিদা মেটাতে চট্টগ্রামে ভিড়ছে চার ডিজেলবাহী জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
১২ দিনের চাহিদা মেটাতে চট্টগ্রামে ভিড়ছে চার ডিজেলবাহী জাহাজ

সংগ্রহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চারটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব জ্বালানি দিয়ে দেশের প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

এর মধ্যে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনটি ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাকি একটি ট্যাংকার আগামী রোববার বন্দরে ভিড়বে।

বন্দরে আসা জাহাজগুলো হলো— এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সং হু। এ তিনটি ট্যাংকার শুক্রবার পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। অপরদিকে, এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের আরেকটি ট্যাংকার রোববার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সবগুলো জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে এবং যথাসময়ে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টন। সে হিসেবে নতুন করে আসা এই ডিজেল দেশের প্রায় ১২ দিনের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় আগাম মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে কোনো ঘাটতি তৈরি না হয়।

বট বাহিনীর অপপ্রচারে ক্ষোভ শিক্ষামন্ত্রীর, নজরদারিতে গড়ছেন বিশেষ সেল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
বট বাহিনীর অপপ্রচারে ক্ষোভ শিক্ষামন্ত্রীর, নজরদারিতে গড়ছেন বিশেষ সেল

সংগ্রহীত ছবি

ফেসবুকে ‘বট বাহিনী’র মাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য বিকৃত করে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করা হচ্ছে এবং তাকে নিয়ে নানা ধরনের ট্রল ছড়ানো হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ফেসবুকে বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায়, ট্রল করে। তারা এমন সব অপপ্রচার চালাচ্ছে, যেন আমি পরীক্ষার রুটিন পরীক্ষার দিন দেব। আমি বলেছি, ‘জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না’, অথচ সেটিকে বিকৃত করে ছড়ানো হয়েছে—‘ফেল করলে এমপিও বাতিল’। এখন তো মনে হয়, ফেসবুকই দেশ চালায়।”

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। “আই ওয়ান্ট টু সি এভরিথিং” মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর প্রতিবেদনের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মূল্যায়ন প্রতিবেদনও থাকবে।

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে শিক্ষার্থী বা জনসংখ্যার অভাব নেই। “বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংকট রয়েছে, কিন্তু আমাদের সেই সমস্যা নেই। বিশ্বায়নের যুগে এগিয়ে যেতে আমাদের কোনো বাধা নেই। তবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনও অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, অথচ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে পর্যাপ্ত বাজেট চাওয়া হচ্ছে না। “আমি দেখলাম, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোয়ালিটি এডুকেশন উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ চাওয়া হয়নি। শুধু বিল্ডিং নির্মাণের দিকে ঝোঁক থাকলে চলবে না—মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ,” যোগ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নবীন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম, সহায়ক সেবা ও ক্যাম্পাস জীবনের সঙ্গে পরিচিত করাতেই এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। সকাল ১১টায় অতিথি ও শিক্ষার্থীদের আসন গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, অতিথিদের বরণ এবং নবাগত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু হাসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদের একাধিক সদস্য বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, মো. সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এবং মো. মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু।

অর্থ পাচারে ‘ফোকলা’ ব্যাংকিং খাত, দুই বছরের ‘কুশন’ চান অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
অর্থ পাচারে ‘ফোকলা’ ব্যাংকিং খাত, দুই বছরের ‘কুশন’ চান অর্থমন্ত্রী

সংগ্রহীত ছবি

বছরের পর বছর ধরে অর্থ পাচারের ফলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ‘ফোকলা’ হয়ে পড়েছে এবং বেসরকারি খাত তীব্র তারল্য সংকটে ধুঁকছে—এমন মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের একটি আর্থিক ‘কুশন’ প্রয়োজন, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলবিশ্ব ব্যাংক-এর বসন্তকালীন সভা উপলক্ষে আটলান্টিক কাউন্সিল-এর এক বিশেষ আয়োজনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করা এবং বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা।” তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাপক আর্থিক ‘লুটপাট’ ও অর্থ পাচারের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার যে অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তা কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পুঁজিবাজার অত্যন্ত নাজুক এবং দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাজারে মূলধন ও চলতি মূলধনের ‘তীব্র সংকট’ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে বেসরকারি খাতকে এখন প্রায় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করতে হচ্ছে। “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সব সময় বেসরকারি খাতনির্ভর। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই খাতকে আগে উদ্ধার করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ,” বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দেশের অনেক ব্যাংকই এখন প্রায় দেউলিয়া অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত নতুন মূলধন জোগান দেওয়ার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বেসরকারি খাতে মূলধন ঘাটতির জন্য অতীত সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে তিনি বলেন, “অতীতে অর্থনীতি গুটিকয়েক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে টিকে থাকা কঠিন করে তোলে।”

তিনি আরও বলেন, ওই পরিস্থিতির কারণে দেশের মুদ্রার মান প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আরও কমেছে। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতের প্রায় ৫০ শতাংশ মূলধন ও চলতি মূলধন কার্যত বিলীন হয়ে গেছে।

এর ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকলেও তাদের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই মন্দার কারণে কোম্পানিগুলো লোকসানে চলছে এবং মূলধন ভেঙে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। একদিকে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতি মূলধন কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে ব্যবসাগুলো আরও ক্ষতির মুখে পড়ছে। “অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যারা, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুর্দশায়,” যোগ করেন তিনি।

এই সংকট মোকাবিলার বিষয়টি আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকেও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত বেসরকারি খাত ও ব্যাংকিং খাতে মূলধন জোগান দেওয়া। এর আগে অন্য কোনো সংস্কার কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে বাংলাদেশ ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন পায়, যার মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও শর্ত পূরণে অগ্রগতি না হওয়ায় তা বিলম্বিত হয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, আসন্ন বাজেট এবং বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা হিসেবে অন্তত ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়েও চলমান আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংক বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে।

আইএমএফের শর্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। এটি ১১ শতাংশ থেকে নেমে এখন ৭ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত না হলে কর-জিডিপি বাড়ানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মত দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংককে জানিয়েছি—প্রথমে ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াতে হবে, তারপর কর-জিডিপি বাড়ানোর বিষয়টি আসবে। আর এটি সময়সাপেক্ষ।”

সবশেষে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আগামী দুই বছরের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক ‘কুশন’, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।”