মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের বিশেষ পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

অর্থনীতি ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের বিশেষ পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

গভর্নর

দেশের ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৮ মাসের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর কোড’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

গভর্নর জানান, আগের সরকারের সময় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে প্রায় দুই কোটি আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এ পরিস্থিতি থেকে ব্যাংকিং খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ১৮ মাসের কর্মপরিকল্পনার প্রথম ছয় মাসে বুলেট পেমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ নিষ্পত্তি বা এক্সিটের সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তী এক বছরে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন এবং অর্থ ঋণ আদালত আইন কার্যকর করে খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ড. মো. মোস্তাকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই এ দুটি আইন পাস হতে পারে।

ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন গভর্নর। তিনি জানান, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি করতে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ প্যাকেজ চালু করা হবে।

এ ছাড়া তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গভর্নরের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কটিয়াদীতে ক্রিকেট ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে ক্রিকেট ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

‘ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ড্রিম হলি মডেল একাডেমির উদ্যোগে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে তারা মিয়া স্মৃতি সংসদ চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটন্ত কলি সোশ্যাল অর্গানাইজেশন রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

রোববার বিকেলে উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের ভিড় জমে। ফাইনাল খেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ড্রিম হলি মডেল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন ফুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্যও দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি মাদকমুক্ত দেশ ও সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এ উপলক্ষে কটিয়াদী উপজেলায় কটিয়াদী, বোয়ালিয়া, আচমিতা, মসূয়া ও বনগ্রাম—এই পাঁচটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে তোলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি কটিয়াদীর তরুণ ও যুবসমাজকে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, মো. আতিকুর রহমান আতিক, উত্তর চরপুক্ষিয়া ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এম. এ. আমিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুল আলম মাসুদ ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভূঞা শ্যামল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু নায়েম বাবুল, জালালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম হিমেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, ক্রীড়ানুরাগী এবং বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

ফাইনাল খেলায় শুরু থেকেই দুই দল জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করে। দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মাঠে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় তারা মিয়া স্মৃতি সংসদ চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটন্ত কলি সোশ্যাল অর্গানাইজেশন রানার্সআপ হয়।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকেরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন কর্মসূচি পালন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদল।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

মোশতাক আহমেদ শাহীন বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে আমরা জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছি। একই সঙ্গে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সারাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জেও ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।

সচেতনতামূলক লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব ও বিভিন্ন পাত্রের পানি নিয়মিত পরিবর্তন করা, পানি সংরক্ষণের পাত্র ঢেকে রাখা, মশারি ও মশা নিরোধক ব্যবহার এবং পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, নারিকেলের খোসা ও ভাঙা পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাইরে বের হলে শরীরের অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে—এমন পোশাক পরা এবং হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা শরীরব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে এটিকে চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন এর আগেও জেলা যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১,২২১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১,২২১

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২২১ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং পরীক্ষায় ৮৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১০১ জনের হাম সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে মোট ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ হাজার ৬৪৬ জনের রোগ নিশ্চিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা গ্রহণ এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।