বুন্দেসলিগায় পাঁচ দশকের দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড হ্যারি কেইনের
জার্মান ফুটবলে পাঁচ দশকের পুরোনো এক কীর্তি গুঁড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড এখন এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের দখলে। গতকাল শুক্রবার নিজের ৯৮তম ম্যাচেই এই কীর্তি গড়েন তিনি।
কেইনের রেকর্ডের রাতে ইউনিয়ন বার্লিনকে ৭-০ গোলে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। বায়ার্নের জয়ের ম্যাচে ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করেন কেইন।
এর আগে বুন্দেসলিগায় ১০০ গোল করতে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল ডিটার ম্যুলারের। ১৯৭৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন। কোলনের হয়ে খেলার সময় ১২৯ ম্যাচে ১০০ গোলের কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। প্রায় ৪৯ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন। ম্যুলারের চেয়ে ৩১ ম্যাচ কম খেলেই রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন তিনি।
কেইন বলেন, ‘সত্যি বলতে, বুন্দেসলিগায় ১০০ গোল করতে পেরে আমি বেশ গর্বিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে তো আমি এটা করেছিই। এখন একদম ভিন্ন একটি লিগেও এই কীর্তি গড়তে পেরে সত্যিই গর্ব হচ্ছে। আমি শুধু বলব, পুরো দলকে অনেক ধন্যবাদ।’
মিউনিখে আসার পর একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলা কেইনের দখলে এখন বায়ার্নের জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দ্রুততম ৭৫, ১০০ ও ১৫০ গোলের রেকর্ডও। সব ধরনের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্লাবটির হয়ে ১৫৬ ম্যাচে কেইনের গোলসংখ্যা এখন ১৫৬—আধুনিক ফুটবলে যা এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান।
তবে কেইনের রেকর্ডের রাতে ম্যাচের সেরা পারফর্মার ছিলেন মাইকেল ওলিসে। জয়হীন চাপে থাকা ইউনিয়ন বার্লিনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে বড় জয় এনে দেন এই ফরাসি তারকা। ‘অক্টোবরফেস্ট’ উৎসব উপলক্ষে বিশেষ জার্সি পরে মাঠে নামা বায়ার্নের খেলায় শুরু থেকেই ছিল উৎসবের আবহ।
১৮ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার দুর্দান্ত গোলে খাতা খোলে বায়ার্ন। আলফনসো ডেভিসের বানিয়ে দেওয়া বলে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে জাল কাঁপান মুসিয়ালা।
কিছুক্ষণ পর লুইস দিয়াসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও কেইনের কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে পেনাল্টি থেকে। বক্সের ভেতর ওলিসে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। আর তা থেকে নিখুঁত শটে নিজের শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন কেইন। বিরতির ঠিক আগে মুসিয়ালার পাস থেকে ডি-বক্সের কোণা দিয়ে দর্শনীয় শটে বায়ার্নকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ওলিসে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল বার্লিন। তবে ম্যানুয়েল নয়ার পরপর দুটি সেভ করে বায়ার্নকে রক্ষা করেন। এর মধ্যে ইয়ানিক হাবেরারের একটি নিশ্চিত সুযোগ নস্যাৎ করাও ছিল অন্যতম। চার ম্যাচে ১৭ গোল হজম করা বার্লিনের এ আসরে প্রথম জয়ের অপেক্ষা তাই আরও বাড়ে।
সেই সুযোগ মিসের পরই ৫৪ মিনিটে চতুর্থ গোলটি হজম করে সফরকারীরা। ডান দিক থেকে ওলিসের চমৎকার ক্রসে নিখুঁত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেইন।
এক ঘণ্টার খেলা শেষে ইসমায়েল সাইবারি বদলি হিসেবে নামার সাত মিনিটের মাথায় বায়ার্নের হয়ে নিজের প্রথম গোল পান। ডেভিসের পাস ধরে ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে পঞ্চম গোলটি করেন মরক্কোর এই তারকা।
তিন মিনিট পর অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে দলের ষষ্ঠ ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন ওলিসে। এর তিন মিনিট পর টম বিশফের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এই ফরাসি তারকা।
গত জানুয়ারিতে উলফসবুর্গের বিপক্ষে ৮-১ ব্যবধানে জয়ের পর এটিই বায়ার্নের সবচেয়ে বড় জয়। এই জয়ে সাময়িকভাবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে তারা। তবে শনিবার ফ্রাইবুর্গ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ড নিজ নিজ ম্যাচে জিতলে আবার শীর্ষে ফেরার সুযোগ থাকবে দল দুটির সামনে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array