রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ভৈরবে মেধাবৃত্তির আড়ালে মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ, অবগত নয় প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে মেধাবৃত্তির আড়ালে মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ, অবগত নয় প্রশাসন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন আয়োজিত ১৩তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেধাবৃত্তির নামে সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে ধর্মীয় কার্যক্রমের আড়ালে মাইজভাণ্ডারী তরিকার মতবাদ প্রচার করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসন অবগত নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ভৈরব উপজেলার আগানগর জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করে দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিআইআরআই) ও মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব।

এর আগে ২০২৫ সালে ভৈরবে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ১২তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

২০২৬ সালের মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং ভোকেশনালের চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০টি কক্ষে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন সহকারী শিক্ষক।

কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের সদস্য ইউনূস আলমগীর। ১০০ নম্বরের এ পরীক্ষার সময় ছিল এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষার সিলেবাসে বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ২০, মেধা বিকাশ ১৪, নৈতিক শিক্ষা ১৪ এবং তাদের প্রসপেক্টাসে অন্তর্ভুক্ত অষ্টম অধ্যায়ের মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে ১২ নম্বর রাখা হয়। ভোকেশনালের ক্ষেত্রে মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে রাখা হয় ১০ নম্বর। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আবেদন ফরমের জন্য ১৮০ টাকা নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক রাব্বি মিয়া এবং মাইজভাণ্ডারী তরিকার অনুসারী আগানগর গ্রামের সুরুল্লার বাড়ির সজিব মিয়া ভৈরবের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে মাইজভাণ্ডারী তরিকার অনুসারী কিছুসংখ্যক সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনকে না জানিয়ে প্রায় ২৫টি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষকদের অবহিত করে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষার জন্য জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিয়ে যান। ওই কেন্দ্রে ১০টি কক্ষে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আবেদন ফরম পূরণের আগে সহকারী শিক্ষকেরা নিজ নিজ প্রধান শিক্ষককে অবহিত করলেও প্রধান শিক্ষকেরা উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি জানাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাপস চন্দ্র বিশ্বাসও তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ মেধাবৃত্তি আয়োজনের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেননি। অন্যদিকে, আয়োজনকারী মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন বাসিন্দার ভাষ্য, এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছে কী ধরনের শিক্ষা বা আদর্শ উপস্থাপন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।

তাঁদের দাবি, সরকারি কারিকুলামের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতাদর্শ বা আকিদা যুক্ত করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের আরও দাবি, ধর্মের নামে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট তরিকার প্রতি আকৃষ্ট করতে মেধাবৃত্তির আয়োজন করা হয়ে থাকলে এর অন্তরালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ স্থানীয় প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।

পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শক ও বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিছুর রহমান সাদেক বলেন, “এখানে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা চট্টগ্রাম থেকে আয়োজন করা হয়েছে। মাইজভাণ্ডারী প্রচারণা ও প্রসারের জন্যই এই মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

কক্ষ পরিদর্শক ও ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “গত দুই বছর ধরে এই বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি চমৎকার বৃত্তি। প্রশ্নের মান খুব ভালো এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।”

এ বিষয়ে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ইউনূস আলমগীর বলেন, “সিলেবাসের মধ্যে স্কুল-কলেজে পড়ানো বইয়ের পাঠ্যসূচি থেকে ৬০ নম্বরের পরীক্ষা রয়েছে। এছাড়া নৈতিক শিক্ষা ও পরিবেশ বিষয়ক প্রশ্নও রয়েছে। আমরা যারা আয়োজন করেছি, তারা মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধের ওপর ১২ নম্বরের প্রশ্ন রেখেছি।”

তিনি আরও বলেন, “গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, যিনি আধ্যাত্মিক শরাফত সৃষ্টি করেছেন, তিনি হলেন সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী। তাঁর জীবনীর ওপর আমরা কিছু প্রশ্ন রেখেছি।”

এ ধরনের প্রশ্ন কেন রাখা হয়েছে জানতে চাইলে ইউনূস আলমগীর বলেন, “দরবার শরীফ সম্পর্কে জানার জন্য এসব প্রশ্ন করা হয়েছে। দরবারে যেসব ভালো কাজ হয়, সেগুলো সম্পর্কে জানার জন্য এবং দরবার যে সবসময় ভালো ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে আছে, তা জানানোর জন্য এসব প্রশ্ন রাখা হয়েছে।”

জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাপস চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “ধর্মীয় বিষয় হওয়ায় এবং বন্ধের দিন থাকায় সভাপতি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে আয়োজনের অনুমতি দিয়েছি। এর আগে গত বছরও প্রথমবারের মতো এভাবেই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি, যেটা সত্য, সেটাই বলছি। আর প্রসপেক্টাসে কী আছে, সেটিও আমি পড়ে দেখিনি। ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজন এখানে আর করতে পারবে না।”

ভৈরব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, “এটা তো অবশ্যই আমাদের সিলেবাস-বহির্ভূত। এ ধরনের আয়োজন তারা কীভাবে করেন, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদেরও বিষয়টি জেনে-শুনে শিক্ষার্থীদের পাঠানো উচিত ছিল। যেহেতু আমাদের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই, এটি কোনো নীতিমালার মধ্যেও পড়ে না। প্রধান শিক্ষকদের উচিত ছিল আয়োজনের আগে প্রশাসন বা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা জানা।”

তিনি আরও বলেন, “ছুটির দিনে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে, এটি অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়। তাদের কোনো নিজস্ব এজেন্ডা থাকতে পারে। আমার ধারণা, কোনো গোষ্ঠী হয়তো নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক আয়োজন করেছে। এটি সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত এবং শিক্ষা কারিকুলামের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রশাসন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কিংবা আমরা কেউই এ বিষয়ে অবগত নই।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, “বিভিন্ন সংগঠন এ ধরনের আয়োজন করে থাকে। তবে যেহেতু এটি একটি তরিকাপন্থী প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, সেহেতু তাদের কোনো নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।”

কিশোরগঞ্জে এমপি মাজহারুল ইসলামকে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এমপি মাজহারুল ইসলামকে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলামের আগমন উপলক্ষে তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম আশফাক এবং এডহক কমিটির সদস্য মো. খসরুজ্জামান (জিএস শরীফ)।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা।

এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। তাঁর আগমন উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

কটিয়াদীতে সিসা কারখানা চালুর প্রতিবাদে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে সিসা কারখানা চালুর প্রতিবাদে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর একটি সিসা কারখানা পুনরায় চালুর প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের মধ্যস্থতা এবং জেলা যুবদলের সভাপতি জিএস শরীফ ও কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সিসা কারখানা চালু হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি পুনরায় চালুর যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক মাস আগে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। শনিবার কারখানাটি পুনরায় চালু করা হলে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মধ্যপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সিসা কারখানা কোনোভাবেই চালু করতে দেওয়া হবে না। কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ বন্ধ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

পরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি জিএস শরীফ, কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশ্বাসে অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। কে জি এন্টারপ্রাইজ সিসা কারখানার পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, এটি একটি যৌথ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে সব আইন ও বিধি মেনেই কারখানাটি চালু করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মো. শাহজাহান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন। মেশিন চালিয়ে বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করার পর প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে কারখানাটি বন্ধ থাকার পর তারা হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।

কারখানাটি পরিবেশ বা সমাজের কোনো ক্ষতি করছে না দাবি করে তিনি বলেন, এটি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সরকারের শিল্পকারখানা রক্ষার নীতির মধ্যে থাকলেও কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে কারখানাটি বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। সংসদ সদস্যকে সরেজমিনে কারখানাটি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারখানাটি পরিবেশের ক্ষতি করছে—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তারা কারখানা বন্ধ করে দেবেন।

এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্ধ থাকা একটি সিসা কারখানা পুনরায় চালুর প্রতিবাদে এলাকাবাসী মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছিলেন। পরে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৩৬

দেশে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩৬ জন। রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের, একজন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং অন্যজন ময়মনসিংহ বিভাগের।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০১ জন এবং হাম সন্দেহে মারা গেছেন ৯৫৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ২৫৫ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯৫৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।