দেশের মাধ্যমিক শিক্ষায় এখনো ৪১ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষকতার মৌলিক বা ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। মাদরাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক এখনো ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব কমিটমেন্ট টু দ্য প্রফেশন, উন্নত মর্যাদা ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’। দিবসটি উপলক্ষে সরকার সেরা শিক্ষক নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক ছিলেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষিত ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত।
মাদরাসা শিক্ষায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদরাসা শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তাঁদের মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রশিক্ষিত। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন। তাঁদের প্রায় ২০ শতাংশের কোনো প্রশিক্ষণ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে শিক্ষক নিয়োগের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। এতে শ্রেণিকক্ষে আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষণপদ্ধতি প্রয়োগে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার উদ্যোগী হবেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর মাউশি এ প্রকল্পের প্রশিক্ষণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষকতার মৌলিক বা ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ এক বিষয় নয়। ফলে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষককে পেশাগত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।