রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল আবারও

শাহীন আলম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল আবারও

ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ডিসেম্বরের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২১৫ টাকা থেকে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের লিটারপ্রতি মূল্যও বাড়িয়ে ৫৫ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে বিইআরসি এ নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নির্ধারিত এই দর সেইদিন সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।

এর আগে নভেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২১৫ টাকা এবং অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ১ টাকা ১৯ পয়সা কমিয়ে ৫৫ টাকা ৫৮ পয়সা নির্ধারণ করেছিল সংস্থাটি।

অক্টোবরের প্রথম ৩ দিনেই রেমিট্যান্স ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
অক্টোবরের প্রথম ৩ দিনেই রেমিট্যান্স ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার
অক্টোবর মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা।

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত বছরের অক্টোবরের প্রথম তিন দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসী আয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক ইতিবাচক পরিবেশের কারণে প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শিক্ষকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন ৪১ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন ৪১ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষক

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষায় এখনো ৪১ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষকতার মৌলিক বা ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। মাদরাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক এখনো ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব কমিটমেন্ট টু দ্য প্রফেশন, উন্নত মর্যাদা ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’। দিবসটি উপলক্ষে সরকার সেরা শিক্ষক নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক ছিলেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষিত ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত।

মাদরাসা শিক্ষায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদরাসা শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তাঁদের মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রশিক্ষিত। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন। তাঁদের প্রায় ২০ শতাংশের কোনো প্রশিক্ষণ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে শিক্ষক নিয়োগের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। এতে শ্রেণিকক্ষে আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষণপদ্ধতি প্রয়োগে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার উদ্যোগী হবেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর মাউশি এ প্রকল্পের প্রশিক্ষণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষকতার মৌলিক বা ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ এক বিষয় নয়। ফলে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষককে পেশাগত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ, জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাচ্ছেন ১০০ গুণী শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ, জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাচ্ছেন ১০০ গুণী শিক্ষক
আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের সম্মান ও তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’।

দিবসটি উপলক্ষে আজ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর জাতীয় সম্মাননার পরিধি ১২ জন থেকে বাড়িয়ে ১০০ জন করা হয়েছে। দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসব শিক্ষককে বাছাই করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মাননার মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন, কলেজে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত মর্যাদা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ইউনেস্কোর অনুমোদনক্রমে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়।