শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা ‘অবাস্তব’: বাংলাদেশ ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:০৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা ‘অবাস্তব’: বাংলাদেশ ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংক—অগ্রণী, জনতা, বেসিক ও রূপালী—২০২৯ সালের মধ্যে মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার যে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে, তা ‘অবাস্তব, তথ্য-উপাত্তবিবর্জিত ও বাস্তবতা-বহির্ভূত’ উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর বিপুল মূলধন ঘাটতি, খেলাপি ঋণের উচ্চহার, সীমিত মুনাফা এবং আর্থিক কাঠামোর দুর্বলতা বিবেচনায় এসব পরিকল্পনাকে লক্ষ্যহীন ও অপ্রাপ্তিযোগ্য বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৯ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মূলধন পর্যাপ্ততা অর্জনের নির্দেশ দিলেও জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের প্রস্তাব সেই লক্ষ্য থেকে দূরে সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিয়েছে কেবল রূপালী ব্যাংক। অন্যদিকে প্রভিশন ফরবিয়ারেন্স সুবিধায় কাগজে-কলমে উদ্বৃত্ত দেখাতে পেরেছে সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।

জনতা ব্যাংকের ঘাটতি কমার বদলে বাড়ার পূর্বাভাস
জনতা ব্যাংক বর্তমানে ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে, যা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালে বেড়ে ২০ হাজার ৬০০ কোটিতে দাঁড়াবে। এটি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইভাবে ৪৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি কমিয়ে ৩০ হাজার ২৪০ কোটিতে আনার লক্ষ্যও বাস্তবসম্মত নয়। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি করেছে তিন হাজার ৭১ কোটি লোকসান, এবং ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই লোকসান আরও তিন হাজার কোটি।

অগ্রণী ব্যাংকের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য
অগ্রণী ব্যাংকের বর্তমান মূলধন ঘাটতি ৭ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। তবুও তারা দাবি করেছে ২০২৫ সালেই তিন হাজার ১৪০ কোটি ঘাটতি কমানো সম্ভব—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’। ব্যাংকটি ২০২৪ সালে করেছে ৯৩৭ কোটি টাকা লোকসান, এবং তিন বছরে মাত্র এক বছর সীমিত লাভে ছিল।

বেসিক ব্যাংক: লোকসান প্রবণতার মাঝেও উচ্চ লক্ষ্য
বর্তমানে ৮ হাজার ৬২১ কোটি টাকা ঘাটতিতে থাকা বেসিক ব্যাংক ২০২৯ সালে তা তিন হাজার ২৫৭ কোটিতে নামানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২২-২৪ তিন বছরেই ব্যাংকটি লোকসানে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন।

রূপালী ব্যাংকের পরিকল্পনা তুলনামূলক বাস্তবসম্মত
রূপালী ব্যাংক তিন বছরে ৮৩ কোটি টাকা লাভ করায় তাদের পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটি ২০২৯ সালে মূলধন ঘাটতি প্রায় এক হাজার কোটি কমানোর লক্ষ্য দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংকট শুধু কম মুনাফা নয়, বরং গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। মূলধন ঘাটতি কাটাতে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, অনিষ্পন্ন মামলা নিষ্পত্তি, জামানত জব্দ-বিক্রি, ওয়ান-টাইম সেটেলমেন্ট, অকার্যকর শাখা বন্ধ ও পরিচালন ব্যয় কমানো জরুরি।

২০২৫ সালের জুন শেষে পুরো ব্যাংক খাতে মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার কোটির বেশি। ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ২৪টি ন্যূনতম মূলধন ধরে রাখতে ব্যর্থ—যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর শেষ পর্যন্ত চালু হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ রক্ষায় নদীর ওপর স্থাপিত দুটি ফেরি।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার সূতারপাড়া ইউনিয়নের ধনু নদীতে বালিখলা ফেরি এবং মিঠামইন উপজেলা সদরসংলগ্ন ঘোড়াউত্রা নদীতে শান্তিপুর ফেরির চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ফেরি চলাচল উদ্বোধনের সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং ইজারাদারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, ফেরিগুলো মূলত শুকনো মৌসুমে চলাচল করে। প্রতি বছর প্রায় ছয় মাস হাওরের সাবমার্জিবল সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পানি নেমে সড়ক ভেসে উঠতেই ফেরি আবার চলতে শুরু করে।

এই রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় করিমগঞ্জের বালিখলা হয়ে হাওরের তিন উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগে স্বস্তি ফিরেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের উদ্যোগে তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়ায় আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পাইকপাড়া হোসাইনিয়া বাবুলউলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে দুই শতাধিক নারী–পুরুষ মেডিসিন, হৃদরোগ, চর্মরোগ, গাইনি ও স্ত্রীরোগসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের ক্যাম্পের কারণে এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়া সহজ হয়েছে। যারা সময়মতো ডাক্তার দেখাতে পারেন না, তারা আজ সুবিধা পেয়েছেন।’
চিকিৎসা নিতে আসা শাহানারা বেগম বলেন, ‘হৃদরোগের পরীক্ষা করতে আগে দূরে যেতে হতো। আজ ক্যাম্পে এসে চেকআপ করিয়ে স্বস্তি পেয়েছি।’

হাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন চর্মরোগে ভুগছিলেন। ক্যাম্পে এসে চিকিৎসকদের কাছ থেকে সময় নিয়ে পরামর্শ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন।
রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। গাইনি সমস্যায় চিকিৎসা পেতে কষ্ট হত। আজ একদম বিনা খরচে সেবা পেয়েছি।’

ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের নেতৃত্বে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন সুমন, তাড়াইল উপজেলা আমির হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, দিগদাইড় ইউনিয়ন সভাপতি শরিফুল, ধলা ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাড়াইল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম।

‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

কিশোরগঞ্জ–১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী বলেছেন, “দেশজুড়ে দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ এবং হোসেনপুরও এর বাইরে নয়। এমপি থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার দেখা যায়। এই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জনশক্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাদী এ মন্তব্য করেন।

সভায় জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ মোকাররম হুসাইনের সভাপতিত্ব এবং সহসভাপতি মুহাম্মদ মুযাক্কির হুসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।