রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৮ ১৪৩২
রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৮ ১৪৩২

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল-এর কলম

শহিদুল আলমের নিরাপত্তা ও মুক্তির জন্য সরকারকে এখনই সর্বোচ্চ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শহিদুল আলমের নিরাপত্তা ও মুক্তির জন্য সরকারকে এখনই সর্বোচ্চ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন—এই খবর শুধু একটি ব্যক্তির গ্রেপ্তার নয়, এটি মানবতার ওপর আঘাত। ফিলিস্তিনে চলমান দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলা অভিযানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে গিয়ে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের নিপীড়নের ধারাবাহিকতা। কিন্তু এই ঘটনায় বাংলাদেশের সরকারের এখনই দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শহিদুল আলম কেবল একজন ফটোজার্নালিস্ট নন, তিনি মানবতার পক্ষের কণ্ঠ। গাজার নিরস্ত্র মানুষদের পক্ষে, সত্যের পক্ষে তাঁর অবস্থান সর্বজনবিদিত। এমন একজন নাগরিককে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। বাংলাদেশ সরকারকে এখনই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং তাঁর নিরাপত্তা ও অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।

একই সঙ্গে এই ঘটনা আবারও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—ইসরায়েলের বর্বরতা ও ফিলিস্তিনে চলমান মানবিক বিপর্যয় কতটা গভীর রূপ নিয়েছে। গাজায় প্রতিদিন মানুষ মরছে, শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ছে, হাসপাতাল ও স্কুল ধ্বংস হচ্ছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেও কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে না। বরং ইসরায়েল তার দমননীতি আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

আজকের পৃথিবীতে যেখানে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কথায় কথায় উচ্চারিত হয়, সেখানে শহিদুল আলমের মতো একজন শান্তিপ্রিয় শিল্পীর বন্দিত্ব লজ্জাজনক। এটি কেবল ইসরায়েলের অমানবিক মুখোশ উন্মোচন করে না, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ভঙ্গুর বাস্তবতাকেও তুলে ধরে।

বাংলাদেশ সরকার যদি এখনই সরব না হয়, তবে এটি কেবল একজন নাগরিকের নয়—পুরো জাতির মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত জাতিসংঘ, ওআইসি, এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো।

ইসরায়েলের নিপীড়ন বন্ধ হোক, ফিলিস্তিনে শান্তি ফিরুক—এটাই আজ বিশ্বের বিবেকবান মানুষের দাবি। একই সঙ্গে আমরা জোর দাবি জানাই, শহিদুল আলমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।

সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো কোনো অপরাধ নয়। শহিদুল আলমের প্রতি অন্যায় মানে মানবতার প্রতি আঘাত। মানবতার এই পরীক্ষা মুহূর্তে বাংলাদেশ যেন তার নাগরিকের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়—এই প্রত্যাশাই জাতির।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।