শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল-এর কলম

নির্বাচনের প্রস্তুতি, মিত্রদের দাবি এবং বিএনপির নেতৃত্বের ত্যাগ

সম্পাদকীয় ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:২৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নির্বাচনের প্রস্তুতি, মিত্রদের দাবি এবং বিএনপির নেতৃত্বের ত্যাগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গভাবে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন বিএনপির কৌশল এবং মিত্র দলের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রক্রিয়া অনেকটাই নজর কেড়েছে। জানা যাচ্ছে, দলটি শুধু নিজেদের প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড় করাচ্ছে না, বরং মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্বাচনী মাঠে শক্তিশালী অবস্থান নিতে চাইছে। মিত্রদের মধ্যে শতাধিক আসনের দাবি উঠেছে, যা প্রমাণ করছে দলটি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং অংশীদারিত্ব এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়েও অত্যন্ত সচেতন।

বিএনপির এই অবস্থান কেবল আজকের নয়, এটি দলের দীর্ঘ ইতিহাস ও আদর্শের ফলাফল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি দেশের গণতান্ত্রিক নীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য এক শক্ত ভিত্তি স্থাপন করে। জিয়াউর রহমান ছিলেন সাহসী ও দূরদর্শী নেতা, যিনি কঠিন সময়েও দেশের মানুষকে স্থিতিশীলতা ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেছিলেন। তার নেতৃত্বে গঠিত দল আজও তার আদর্শ ও দর্শনের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তার সাহসিকতা, দূরদর্শিতা এবং দেশের জন্য অননুপ্রাণিত ত্যাগ রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক নিদর্শন।

পরবর্তীতে, দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। কঠিন সময়ের রাজনৈতিক চাপ, দমন-পীড়ন ও কারাবাস—এসব সত্ত্বেও তিনি দলের নেতৃত্ব ধরে রাখেন এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। তাঁর দৃঢ় মনোবল, সাহস এবং ত্যাগ বিএনপির মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে দল দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সমীকরণে সঠিক সমন্বয় এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্বে তারেক জিয়া দলের আধুনিকীকরণ, মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি করার কাজ করছেন। তারেক জিয়ার উদ্যোগ বিএনপির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করেছে। তিনি মিত্র দল ও জোটের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে দলের লক্ষ্য, আদর্শ এবং নির্বাচনী কৌশলকে মেলাতে সচেষ্ট।

সংবাদ অনুযায়ী, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, গণফোরাম, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট শতাধিক আসনের দাবি তুলেছে। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপি প্রথমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করছে এবং মাঠে তাদের প্রচারণার জন্য সবুজ সংকেত দিচ্ছে। এটি কেবল ভোট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নয়, বরং দলের আদর্শ, নৈতিকতা এবং রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের এক প্রকাশ।

মিত্র দলের সঙ্গে সমন্বয় এবং শতাধিক আসনের বরাদ্দ প্রদর্শন করছে বিএনপির রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্বের প্রগাঢ়তার প্রতিফলন। এটি নির্দেশ করছে যে, দল শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্বও নিয়েছে। মিত্র দলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে বিএনপি রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং দেশপ্রেমের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

বিএনপির ইতিহাসে দেখা যায় যে, দলটি কখনোই স্বার্থপর রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়নি। দেশের জন্য ত্যাগ, নেতাদের সাহসিকতা এবং আদর্শের জন্য তাদের স্থির প্রতিশ্রুতি দলের মূল ভিত্তি। জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতা, বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা এবং তারেক জিয়ার নেতৃত্ব একত্রে দেশের রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের ত্যাগ এবং দৃষ্টিভঙ্গি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক মান বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

নির্বাচনী মাঠে বিএনপির কৌশল ও মিত্র দলের সঙ্গে সমন্বয় একটি ইতিবাচক উদাহরণ। এখানে দেখা যাচ্ছে, দলের নীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা মাঠে প্রতিফলিত হচ্ছে। দেশের স্থিতিশীলতা, জনগণের আস্থা এবং রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে এই সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল আসন ভাগাভাগি নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র, নেতাদের ত্যাগ, দলের আদর্শ এবং জনগণের বিশ্বাসের পরীক্ষা। বিএনপির লক্ষ্য হলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা, অংশীদারিত্ব বজায় রাখা এবং নির্বাচনী মাঠে ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। এই প্রক্রিয়ায় দেশের রাজনীতি শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং আদর্শ, সাহসিকতা ও ত্যাগের গল্প হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ পর্যন্ত, বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর সমন্বয়, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং নেতাদের ত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। দেশের স্থিতিশীলতা, জনগণের আস্থা এবং রাজনৈতিক আদর্শ রক্ষায় বিএনপি যে ভূমিকা পালন করছে, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা এবং সকলের জন্য শিক্ষা। এই প্রক্রিয়া স্পষ্ট করছে—নেতৃত্বের মান, আদর্শ এবং ত্যাগ ছাড়া দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি দৃঢ় রাখা সম্ভব নয়।

হোসেনপুরে আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরান মিয়ার দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ বিস্কুট ও খাদ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রবাস থেকে দেশে ফিরে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা এই তরুণের স্বপ্ন আগুনে অনেকটাই ভস্মীভূত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের হেলিপ্যাডসংলগ্ন একটি দোকানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস থেকে দেশে ফিরে প্রায় তিন মাস আগে অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপ নেন ইমরান মিয়া। তাঁর দোকান থেকে হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানে এসব পণ্য সরবরাহ করা হতো।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে তালা দিয়ে বাড়ি চলে যান ইমরান। পরে গভীর রাতে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক রিকশাচালক দোকানে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। বিষয়টি তিনি দোকানের মালিককে জানালে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, “দুটি কোম্পানির প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল দোকানে ছিল। কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও অধিকাংশই পুড়ে গেছে। নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। আগুনে আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল।”

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসার পুঁজি ও পণ্যসামগ্রীর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামসুল হক বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা মূল্যায়নের পর আরও স্পষ্ট হবে।

তাড়াইলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

রুহুল আমিন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথক র‍্যালি বের হয়ে তাড়াইল সদর বাজারের কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এসে একত্রিত হয়।

সাচাইল শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, তাড়াইল শ্রীশ্রী কেন্দ্রীয় কালী মন্দির এবং বরুহা শ্রীশ্রী পঞ্চতত্ত্ব মন্দিরের যৌথ আয়োজনে এ র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

আয়োজকদের উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকা থেকে বের হওয়া র‍্যালিগুলো তাড়াইল সদর বাজারের কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এসে মিলিত হয়। পরে কেন্দ্রীয় কালী মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শীতল প্রসাদ পাল আগত ভক্তদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এরপর সম্মিলিত র‍্যালিটি কেন্দ্রীয় কালী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে তাড়াইল সদর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালনা আখড়ায় গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

র‍্যালিতে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ভক্তদের মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা।

র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট তাড়াইল উপহোজেলা শাখার সভাপতি অজয় সরকার ও সাধারণ সম্পাদক অনুকুল বিশ্বাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মুকুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক সামির সেন সাকি, কেন্দ্রীয় কালী মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শীতল প্রসাদ পালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি অজয় সরকার বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী সত্য, ন্যায়, মানবতা ও শান্তির শিক্ষা দেয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।

ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অনুকুল বিশ্বাস বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতিই সমাজের সৌন্দর্য। জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনের মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

র‍্যালি শেষে কালনা আখড়ায় ধর্মীয় আলোচনা, নামসংকীর্তন ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

রেকর্ডের ঠিকানা বদলায়, সঙ্গী বদলায় না: তামিম-হৃদয়ের মহাকাব্যের নীরব সাক্ষী রাজা

শাহীন আলম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
রেকর্ডের ঠিকানা বদলায়, সঙ্গী বদলায় না: তামিম-হৃদয়ের মহাকাব্যের নীরব সাক্ষী রাজা

বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটে ইতিহাসের পাতায় লেখা দুটি মহাকাব্যিক ইনিংস—তামিম ইকবালের ৩৩৪ এবং তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০। বিস্ময়করভাবে, দুই ঐতিহাসিক কীর্তির সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছে রেজাউর রহমান রাজার নাম।

২০২০ সালে তামিম ইকবালের ৩৩৪ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংসের পর মাঠে দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার দেওয়ার গৌরবময় মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন রাজা। সময়ের স্রোত পেরিয়ে এবার নিজেই হয়ে উঠলেন আরেক ইতিহাসের অংশ- তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ছিলেন তাঁর ব্যাটিং সঙ্গী, দৃঢ় হাতে সামলেছেন অন্য প্রান্ত।

একবার ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন, আরেকবার ইতিহাসের পাশে দাঁড়িয়ে গড়েছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।

তামিমের ৩৩৪ থেকে হৃদয়ের ৩৫০—দুই প্রজন্মের দুই মহাকাব্য, আর দুটির মাঝখানে এক রাজা।
বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটের এই গল্পে রেজাউর রহমান রাজা তাই শুধু একজন ক্রিকেটার নন—তিনি হয়ে থাকলেন ইতিহাসের দুই স্মরণীয় অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী ও সহযাত্রী।