রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল-এর কলম

নির্বাচনের প্রস্তুতি, মিত্রদের দাবি এবং বিএনপির নেতৃত্বের ত্যাগ

সম্পাদকীয় ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:২৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নির্বাচনের প্রস্তুতি, মিত্রদের দাবি এবং বিএনপির নেতৃত্বের ত্যাগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গভাবে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন বিএনপির কৌশল এবং মিত্র দলের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রক্রিয়া অনেকটাই নজর কেড়েছে। জানা যাচ্ছে, দলটি শুধু নিজেদের প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড় করাচ্ছে না, বরং মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্বাচনী মাঠে শক্তিশালী অবস্থান নিতে চাইছে। মিত্রদের মধ্যে শতাধিক আসনের দাবি উঠেছে, যা প্রমাণ করছে দলটি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং অংশীদারিত্ব এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়েও অত্যন্ত সচেতন।

বিএনপির এই অবস্থান কেবল আজকের নয়, এটি দলের দীর্ঘ ইতিহাস ও আদর্শের ফলাফল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি দেশের গণতান্ত্রিক নীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য এক শক্ত ভিত্তি স্থাপন করে। জিয়াউর রহমান ছিলেন সাহসী ও দূরদর্শী নেতা, যিনি কঠিন সময়েও দেশের মানুষকে স্থিতিশীলতা ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেছিলেন। তার নেতৃত্বে গঠিত দল আজও তার আদর্শ ও দর্শনের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তার সাহসিকতা, দূরদর্শিতা এবং দেশের জন্য অননুপ্রাণিত ত্যাগ রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক নিদর্শন।

পরবর্তীতে, দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। কঠিন সময়ের রাজনৈতিক চাপ, দমন-পীড়ন ও কারাবাস—এসব সত্ত্বেও তিনি দলের নেতৃত্ব ধরে রাখেন এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। তাঁর দৃঢ় মনোবল, সাহস এবং ত্যাগ বিএনপির মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে দল দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সমীকরণে সঠিক সমন্বয় এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্বে তারেক জিয়া দলের আধুনিকীকরণ, মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি করার কাজ করছেন। তারেক জিয়ার উদ্যোগ বিএনপির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করেছে। তিনি মিত্র দল ও জোটের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে দলের লক্ষ্য, আদর্শ এবং নির্বাচনী কৌশলকে মেলাতে সচেষ্ট।

সংবাদ অনুযায়ী, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, গণফোরাম, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট শতাধিক আসনের দাবি তুলেছে। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপি প্রথমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করছে এবং মাঠে তাদের প্রচারণার জন্য সবুজ সংকেত দিচ্ছে। এটি কেবল ভোট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নয়, বরং দলের আদর্শ, নৈতিকতা এবং রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের এক প্রকাশ।

মিত্র দলের সঙ্গে সমন্বয় এবং শতাধিক আসনের বরাদ্দ প্রদর্শন করছে বিএনপির রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্বের প্রগাঢ়তার প্রতিফলন। এটি নির্দেশ করছে যে, দল শুধু নির্বাচনে জেতার জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্বও নিয়েছে। মিত্র দলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে বিএনপি রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং দেশপ্রেমের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

বিএনপির ইতিহাসে দেখা যায় যে, দলটি কখনোই স্বার্থপর রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়নি। দেশের জন্য ত্যাগ, নেতাদের সাহসিকতা এবং আদর্শের জন্য তাদের স্থির প্রতিশ্রুতি দলের মূল ভিত্তি। জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতা, বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা এবং তারেক জিয়ার নেতৃত্ব একত্রে দেশের রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের ত্যাগ এবং দৃষ্টিভঙ্গি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক মান বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

নির্বাচনী মাঠে বিএনপির কৌশল ও মিত্র দলের সঙ্গে সমন্বয় একটি ইতিবাচক উদাহরণ। এখানে দেখা যাচ্ছে, দলের নীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা মাঠে প্রতিফলিত হচ্ছে। দেশের স্থিতিশীলতা, জনগণের আস্থা এবং রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে এই সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল আসন ভাগাভাগি নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র, নেতাদের ত্যাগ, দলের আদর্শ এবং জনগণের বিশ্বাসের পরীক্ষা। বিএনপির লক্ষ্য হলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা, অংশীদারিত্ব বজায় রাখা এবং নির্বাচনী মাঠে ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। এই প্রক্রিয়ায় দেশের রাজনীতি শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং আদর্শ, সাহসিকতা ও ত্যাগের গল্প হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ পর্যন্ত, বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর সমন্বয়, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং নেতাদের ত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। দেশের স্থিতিশীলতা, জনগণের আস্থা এবং রাজনৈতিক আদর্শ রক্ষায় বিএনপি যে ভূমিকা পালন করছে, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা এবং সকলের জন্য শিক্ষা। এই প্রক্রিয়া স্পষ্ট করছে—নেতৃত্বের মান, আদর্শ এবং ত্যাগ ছাড়া দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি দৃঢ় রাখা সম্ভব নয়।

কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ মো. সবুজ (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় ঈসাখাঁ ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জের ‘ক’ সার্কেলের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. সবুজ ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার আকুয়া (মড়লপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আসলাম এবং মায়ের নাম নূরজাহান।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে পৌরসভা। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়াসিম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পীযুষ কান্তি ঘোষ এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও জরুরি। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাই সচেতন হলে মশার প্রজননস্থল কমানো এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কুলিয়ারচরকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কিশোরগঞ্জে তরুণদের সংলাপ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কিশোরগঞ্জে তরুণদের সংলাপ

জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রথার পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জের শেরাটন হোটেলের হলরুমে ‘যতক্ষণ না আমরা সবাই সমান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ সভার আয়োজন করা হয়। ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক এ আয়োজন করে যুব সংগঠন ‘তারুণ্যের আহ্বান’।

সভায় জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা নারী-পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত গৎবাঁধা ধারণা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা এবং অ্যাডভোকেসির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত একপেশে ধারণা জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম অন্তরায়। এসব ধারণা পরিবর্তনে পরিবার থেকেই ইতিবাচক চর্চা শুরু করতে হবে।

আলোচনায় উঠে আসে, ঘরের কাজ শুধু নারীদের দায়িত্ব, ছেলেরা রান্না করতে পারে না, নারীরা নেতৃত্বে দুর্বল কিংবা ছেলেদের আবেগ প্রকাশ করা উচিত নয়—এমন ধারণা সমাজে বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে। পাশাপাশি নারীর স্বাধীন মতপ্রকাশ, শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশের পথে বিদ্যমান সামাজিক বাধা এবং বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুক ও অতিরিক্ত উপহারের চাপ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, ছেলে ও মেয়েশিশুর প্রতি সমান আচরণ, পারিবারিক দায়িত্ব ভাগাভাগি, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বৈষম্য কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা প্রতিরোধে প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কমিউনিটির সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইন হয়রানি মোকাবিলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দক্ষতা তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শনাক্ত করতে গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতিনীতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরার কৌশল নিয়েও মতবিনিময় হয়। বক্তারা বলেন, অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে তরুণদের মতামত ও দাবি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সরকারি সহযোগিতার সুযোগ সম্পর্কে তরুণদের অবহিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল আমিন ভূঞা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তফা গিয়াস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘তারুণ্যের আহ্বান’-এর সভাপতি সুমন আচার্য্য।

এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, “জেন্ডার বৈষম্য দূর করার কাজ পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী উদ্যোগ কার্যকর করতে যুবসমাজ, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। শুধু সচেতনতা সৃষ্টি নয়, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও প্রয়োজন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আলোচনা তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও যুবসমাজের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম করবে।