সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল-এর কলম

গণতন্ত্রের পথেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গণতন্ত্রের পথেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরে একেবারে মূল বার্তাটি দিয়েছেন—“বাংলাদেশকে এখন গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।” এটি নিছক কোনো দলের রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং একটি জাতির বাঁচা-মরার প্রশ্ন। গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশকে কল্পনা করা যায় না। অথচ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও এই গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। বারবার একনায়কতন্ত্র, সামরিক শাসন, একদলীয় শাসন ও ভুয়া নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা পথ হারিয়েছি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে রাষ্ট্র পেলাম, তার মূল দর্শন ছিল স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সাম্য ও মানবাধিকার। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, ভিন্নমত দমন করা হয়, সংসদীয় রাজনীতি স্তব্ধ হয়ে যায়। এভাবে প্রথমবার গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। তখন দেশের রাজনীতি ও প্রশাসন ছিল প্রায় অচল অবস্থায়। সেই সময়ে জিয়াউর রহমানের নেওয়া ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন, গণমাধ্যমকে কিছুটা স্বাধীনতা দেন, আর জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনেন।

১৯৭৮ সালের গণভোট ও ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণকে দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির স্বাদ দেয়। জিয়াউর রহমানের সাংবিধানিক সংস্কার বিশেষ করে রাজনৈতিক বহুমতের স্বীকৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সংরক্ষণ আজও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি হয়ে আছে। তাঁর সময়কার ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ আজ বিএনপির নয়, সমগ্র জাতির সম্পদ।

কিন্তু এই গণতন্ত্র টেকেনি। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। শুরু হয় দীর্ঘ নয় বছরের সামরিক শাসন। এরশাদের সময়ে গণতন্ত্রকে দমন করা হয়, রাজনৈতিক কর্মীরা কারাগারে যান, সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ কখনোই একনায়কতন্ত্র মেনে নেয়নি। ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী সমাজ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করে।

১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনের রক্ত, অসংখ্য আন্দোলনকারীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এরশাদের পতন ঘটে। এই গণআন্দোলন প্রমাণ করে—গণতন্ত্রকে সাময়িকভাবে স্তব্ধ করা যায়, কিন্তু চিরতরে হত্যা করা যায় না।

তবে দুঃখিনীর কপালে সুখ বেশি দিন থাকে না, ২০০৬ সালে আবার রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি হয়। দেশের ক্ষমতা চলে যায় অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে, যেটি সামরিক প্রভাবিত ছিল। দুই বছরের এই শাসনামলে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার, মৌলিক অধিকার হরণ, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ—সবই হয়েছিল। যদিও উদ্দেশ্য ছিল “রাজনীতি শুদ্ধ করা”, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়। জনগণের ভোটের অধিকার ছাড়া কোনো সরকারই টিকে না—এই শিক্ষা আবারও স্পষ্ট হয়।

সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কয়েক বছরে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেলেও ধীরে ধীরে দেশ আবারও একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হয়। ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় যেটি ছিল জনগণের আন্দোলনের ফসল এবং সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র ব্যবস্থা। ফলে ২০১৪ সালের নির্বাচন হয় বিরোধী দলবিহীন, যেখানে অধিকাংশ আসনে ভোটাররা ভোটই দিতে পারেননি।

২০১৮ সালের নির্বাচন আরও কলঙ্কিত। ভোটাররা ব্যালটের কাছে যাওয়ার আগেই রাতে বাক্স ভরে ফেলা হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকরা এটিকে ‘মধ্যরাতের নির্বাচন’ বলেছে। এখন বাংলাদেশে সংসদ কার্যত একদলীয়, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করা হয়, মামলা-হামলা-গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়ে গেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে, মানবাধিকার লঙ্ঘন নিত্যদিনের ঘটনা।

লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, আজ শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ সবাই এক কণ্ঠে বলছে, বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য সেই আন্তর্জাতিক প্রত্যাশার প্রতিফলন।

বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে শিক্ষা একটাই—গণতন্ত্র ছাড়া এই দেশ চলতে পারে না। জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটি আজও আমাদের মুক্তির পথ। এরশাদের পতন কিংবা ১/১১ সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করেছে, জনগণ ছাড়া কোনো শাসন টেকসই নয়।

আজ সময় এসেছে—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার। এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস, এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ।

সব শেষ কথা এটাই গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমরা বারবার হোঁচট খেয়েছি, কিন্তু আবারও উঠে দাঁড়িয়েছি। এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, তারা টেকেনি; কিন্তু গণতন্ত্র চিরকাল বেঁচে থেকেছে জনগণের হৃদয়ে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল একটি পথেই নিহিত—গণতন্ত্রের পথে।

জেলা ছাত্রদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে অস্টগ্রামে আনন্দ মিছিল

মোঃ আলী রহমান প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জেলা ছাত্রদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে অস্টগ্রামে আনন্দ মিছিল

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে আনন্দ মিছিল করেছে উপজেলা ছাত্রদল। সোমবার (১ জুন) বিকেলে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল এবং সদস্যসচিব আল মাহমুদ মোস্তাক। তাদের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরের সামনে থেকে শুরু হয়ে অষ্টগ্রাম বড় বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামতলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে নবগঠিত জেলা ছাত্রদল কমিটির প্রতি সমর্থন ও শুভকামনা জানান।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল এবং সদস্যসচিব আল মাহমুদ মোস্তাক। বক্তারা নবগঠিত জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তারা বলেন, ছাত্রদল দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্রসংগঠন। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রদলের কার্যক্রম শক্তিশালী হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তফসির, রোটারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তাকবীর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাকিন, সাধারণ সম্পাদক নান্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিউল ইসলামসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

নবগঠিত জেলা ছাত্রদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সংগঠনের নেতারা আগামী দিনে ছাত্রদলের আদর্শ ও কর্মসূচি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

স্থানীয়দের দাবির মুখে কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস সংসদ সদস্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
স্থানীয়দের দাবির মুখে কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস সংসদ সদস্যের

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের অবহেলিত কাঁচা সড়ক পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত রাস্তা উন্নয়নের আশ্বাস দেন।

সোমবার (১ জুন) দুপুর ২টায় মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারিপাড়া, চন্দ্রাবতী মন্দির এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যা, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে দামপাড়া এলাকায় কয়েক শতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য। বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তার কারণে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায় বলে জানান তারা।

এ সময় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “এই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলীদের এনে রাস্তা পরিমাপ করা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক পাকাকরণের কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের সেবা করাই আমার দায়িত্ব। আপনাদের জন্য আমার বাসার দরজা সবসময় খোলা। এলাকার যে কোনো সমস্যা আমাকে জানাবেন, আমি সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে আমি এলাকাবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যকে এই এলাকায় নিয়ে এসে জনগণের সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরব। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।”

তিনি আরও বলেন, “মাইজখাপন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে বিপুল সমর্থন দিয়েছেন। তাই এলাকার রাস্তা-ঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্যের সরেজমিন পরিদর্শন এবং উন্নয়নের আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের মাধ্যমে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ আল মোস্তফা, মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক শাহীন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই

দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা জানান, মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতাসহ নানা জটিলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতাদের অন্যতম হিসেবে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি টানা কয়েক দশক জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তোফায়েল আহমেদ নয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, সাংবিধানিক রাজনীতি এবং জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলায় আদালতে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

২০০২ সালে দায়ের করা ওই মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাত ও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলেও সম্প্রতি তা পুনরায় শুরু হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ তাঁর নিজ জেলা ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে সার্কিট হাউস মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।