রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল-এর কলম

গণতন্ত্রের পথেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গণতন্ত্রের পথেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরে একেবারে মূল বার্তাটি দিয়েছেন—“বাংলাদেশকে এখন গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।” এটি নিছক কোনো দলের রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং একটি জাতির বাঁচা-মরার প্রশ্ন। গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশকে কল্পনা করা যায় না। অথচ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও এই গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। বারবার একনায়কতন্ত্র, সামরিক শাসন, একদলীয় শাসন ও ভুয়া নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা পথ হারিয়েছি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে রাষ্ট্র পেলাম, তার মূল দর্শন ছিল স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সাম্য ও মানবাধিকার। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, ভিন্নমত দমন করা হয়, সংসদীয় রাজনীতি স্তব্ধ হয়ে যায়। এভাবে প্রথমবার গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। তখন দেশের রাজনীতি ও প্রশাসন ছিল প্রায় অচল অবস্থায়। সেই সময়ে জিয়াউর রহমানের নেওয়া ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন, গণমাধ্যমকে কিছুটা স্বাধীনতা দেন, আর জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনেন।

১৯৭৮ সালের গণভোট ও ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণকে দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির স্বাদ দেয়। জিয়াউর রহমানের সাংবিধানিক সংস্কার বিশেষ করে রাজনৈতিক বহুমতের স্বীকৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সংরক্ষণ আজও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি হয়ে আছে। তাঁর সময়কার ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ আজ বিএনপির নয়, সমগ্র জাতির সম্পদ।

কিন্তু এই গণতন্ত্র টেকেনি। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। শুরু হয় দীর্ঘ নয় বছরের সামরিক শাসন। এরশাদের সময়ে গণতন্ত্রকে দমন করা হয়, রাজনৈতিক কর্মীরা কারাগারে যান, সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ কখনোই একনায়কতন্ত্র মেনে নেয়নি। ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী সমাজ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করে।

১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনের রক্ত, অসংখ্য আন্দোলনকারীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এরশাদের পতন ঘটে। এই গণআন্দোলন প্রমাণ করে—গণতন্ত্রকে সাময়িকভাবে স্তব্ধ করা যায়, কিন্তু চিরতরে হত্যা করা যায় না।

তবে দুঃখিনীর কপালে সুখ বেশি দিন থাকে না, ২০০৬ সালে আবার রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি হয়। দেশের ক্ষমতা চলে যায় অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে, যেটি সামরিক প্রভাবিত ছিল। দুই বছরের এই শাসনামলে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার, মৌলিক অধিকার হরণ, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ—সবই হয়েছিল। যদিও উদ্দেশ্য ছিল “রাজনীতি শুদ্ধ করা”, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়। জনগণের ভোটের অধিকার ছাড়া কোনো সরকারই টিকে না—এই শিক্ষা আবারও স্পষ্ট হয়।

সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কয়েক বছরে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেলেও ধীরে ধীরে দেশ আবারও একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হয়। ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় যেটি ছিল জনগণের আন্দোলনের ফসল এবং সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র ব্যবস্থা। ফলে ২০১৪ সালের নির্বাচন হয় বিরোধী দলবিহীন, যেখানে অধিকাংশ আসনে ভোটাররা ভোটই দিতে পারেননি।

২০১৮ সালের নির্বাচন আরও কলঙ্কিত। ভোটাররা ব্যালটের কাছে যাওয়ার আগেই রাতে বাক্স ভরে ফেলা হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকরা এটিকে ‘মধ্যরাতের নির্বাচন’ বলেছে। এখন বাংলাদেশে সংসদ কার্যত একদলীয়, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করা হয়, মামলা-হামলা-গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়ে গেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে, মানবাধিকার লঙ্ঘন নিত্যদিনের ঘটনা।

লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, আজ শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ সবাই এক কণ্ঠে বলছে, বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য সেই আন্তর্জাতিক প্রত্যাশার প্রতিফলন।

বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে শিক্ষা একটাই—গণতন্ত্র ছাড়া এই দেশ চলতে পারে না। জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটি আজও আমাদের মুক্তির পথ। এরশাদের পতন কিংবা ১/১১ সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করেছে, জনগণ ছাড়া কোনো শাসন টেকসই নয়।

আজ সময় এসেছে—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার। এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস, এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ।

সব শেষ কথা এটাই গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমরা বারবার হোঁচট খেয়েছি, কিন্তু আবারও উঠে দাঁড়িয়েছি। এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, তারা টেকেনি; কিন্তু গণতন্ত্র চিরকাল বেঁচে থেকেছে জনগণের হৃদয়ে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল একটি পথেই নিহিত—গণতন্ত্রের পথে।

কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ময়মনসিংহের যুবক গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ মো. সবুজ (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় ঈসাখাঁ ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জের ‘ক’ সার্কেলের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. সবুজ ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার আকুয়া (মড়লপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আসলাম এবং মায়ের নাম নূরজাহান।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে পৌরসভা। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়াসিম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পীযুষ কান্তি ঘোষ এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও জরুরি। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাই সচেতন হলে মশার প্রজননস্থল কমানো এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কুলিয়ারচরকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কিশোরগঞ্জে তরুণদের সংলাপ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কিশোরগঞ্জে তরুণদের সংলাপ

জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রথার পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জের শেরাটন হোটেলের হলরুমে ‘যতক্ষণ না আমরা সবাই সমান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ সভার আয়োজন করা হয়। ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক এ আয়োজন করে যুব সংগঠন ‘তারুণ্যের আহ্বান’।

সভায় জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা নারী-পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত গৎবাঁধা ধারণা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা এবং অ্যাডভোকেসির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত একপেশে ধারণা জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম অন্তরায়। এসব ধারণা পরিবর্তনে পরিবার থেকেই ইতিবাচক চর্চা শুরু করতে হবে।

আলোচনায় উঠে আসে, ঘরের কাজ শুধু নারীদের দায়িত্ব, ছেলেরা রান্না করতে পারে না, নারীরা নেতৃত্বে দুর্বল কিংবা ছেলেদের আবেগ প্রকাশ করা উচিত নয়—এমন ধারণা সমাজে বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে। পাশাপাশি নারীর স্বাধীন মতপ্রকাশ, শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশের পথে বিদ্যমান সামাজিক বাধা এবং বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুক ও অতিরিক্ত উপহারের চাপ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, ছেলে ও মেয়েশিশুর প্রতি সমান আচরণ, পারিবারিক দায়িত্ব ভাগাভাগি, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বৈষম্য কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা প্রতিরোধে প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কমিউনিটির সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইন হয়রানি মোকাবিলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দক্ষতা তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শনাক্ত করতে গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতিনীতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরার কৌশল নিয়েও মতবিনিময় হয়। বক্তারা বলেন, অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে তরুণদের মতামত ও দাবি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সরকারি সহযোগিতার সুযোগ সম্পর্কে তরুণদের অবহিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল আমিন ভূঞা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তফা গিয়াস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘তারুণ্যের আহ্বান’-এর সভাপতি সুমন আচার্য্য।

এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, “জেন্ডার বৈষম্য দূর করার কাজ পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী উদ্যোগ কার্যকর করতে যুবসমাজ, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। শুধু সচেতনতা সৃষ্টি নয়, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও প্রয়োজন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আলোচনা তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও যুবসমাজের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম করবে।