মাধ্যমিকের পাঠ্যবই সংকটে শঙ্কা, প্রাথমিকের বই প্রস্তুত
দুই সপ্তাহ পর শুরু হতে যাচ্ছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। কিন্তু মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৬৭ শতাংশ পাঠ্যবই এখনো সরবরাহ করতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই নিয়ে সংকটের আশঙ্কা বেশি।
এনসিটিবির কর্মকর্তা ও পাঠ্যবই ছাপার সঙ্গে যুক্ত মুদ্রণকারীরাও একই ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নবম শ্রেণির বই তুলনামূলকভাবে আগেই সরবরাহ সম্ভব হলেও ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির সব বই জানুয়ারির মধ্যেও সরবরাহ শেষ নাও হতে পারে।
অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই নিয়ে কোনো সংকট নেই। এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক স্তরের প্রায় শতভাগ বই ইতিমধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বছরের শুরুতেই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা সব পাঠ্যবই হাতে পাবে।
উল্লেখ্য, বিদায়ী শিক্ষাবর্ষেও বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণে বিলম্ব হয়েছিল। শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় তিন মাস পর সব বিষয়ের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়, যার ফলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, বিদায়ী বছরের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া আগেভাগেই শুরু করা হয়েছিল এবং নভেম্বরের মধ্যে ছাপা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে শেষ মুহূর্তে নভেম্বরে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র বাতিল হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে হয়। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেতেও দেরি হয়। এসব কারণে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপা ও সরবরাহ প্রক্রিয়া পিছিয়ে পড়ে।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক স্তরে ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি এবং মাধ্যমিক স্তরে ২১ কোটি ৪৩ লাখের বেশি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে ছাপা ও বাইন্ডিং শেষ হয়েছে প্রায় পৌনে ১১ কোটি কপি বই। এর মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৮ লাখের বেশি কপি, যা মোট মাধ্যমিক বইয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ।
অন্যদিকে একই সময় পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরে ৯৮ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে এবং এনসিটিবির সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই বিতরণ শেষ হয়েছে।
পাঠ্যবই ছাপার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনসিটিবিতে নিয়মিত চেয়ারম্যান না থাকাও একটি উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, প্রাথমিক স্তরের বই নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তবে কাগজের সংকট, চুক্তিতে দেরিসহ নানা কারণে মাধ্যমিক স্তরের সব বই বছরের শুরুতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।













