‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য এবং ‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’ স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) হোসেনপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সামনে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। বক্তব্যে তিনি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নিসচা হোসেনপুর উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ও সাংবাদিক সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও নিসচার সদস্য সাংবাদিক মাহফুজ রাজা, উপজেলা শাখার সদস্য ও সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম এবং ওমর ফারুক খান জনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শাখার সদস্য কবি হাদিউল ইসলাম, সাংবাদিক উজ্জ্বল কুমার সরকার, সাগর মিয়া, এস এম রিফাত, এস কে শাহীন নবাব, রিফাত মিয়া, ফরিদা পারভিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন নাগরিকেরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আকিল উদ্দিন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। অসতর্কতা, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে দায়িত্বহীনতার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার আর্থিক ও মানসিক সংকটের মুখে পড়ছে। তাই সড়ক নিরাপদ করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একার দায়িত্ব নয়। চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহনমালিক ও সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা জরুরি।
বক্তারা বলেন, যাত্রীদেরও চলন্ত গাড়িতে সতর্ক থাকতে হবে এবং পথচারীদের নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার, গাড়িচালকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং সড়কে প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপদে সড়ক পারাপারে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
তাঁদের মতে, ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। শুধু দিবস পালন করেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা যাবে না; বরং সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি প্রতিদিনের জীবনে চর্চা করতে হবে। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা একটি সচেতনতামূলক র্যালিতে অংশ নেন। পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসব লিফলেটে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সতর্কতার সঙ্গে সড়ক ব্যবহার এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।
নিসচা হোসেনপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ জানান, সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তাঁদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। সামান্য অসতর্কতা যেন কোনো পরিবারের শোকের কারণ না হয়, সে জন্য সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং আইন মেনে চলতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমেই হোসেনপুরসহ সারা দেশে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা সম্ভব।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
Disqus comments are not configured yet.