মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদযাপন

“Together for Health, Stand with Science” এবং “স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়, কিশোরগঞ্জের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৭ এপ্রিল World Health Organization (WHO)-এর উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়ে থাকে।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্সিং শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালি শেষে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্মা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মোঃ মজিবর রহমান, অধ্যক্ষ, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. সাইফুল ইসলাম, পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ডা. মীর নুর-উস-সাদ, সহকারী অধ্যাপক (কমিউনিটি মেডিসিন), একই কলেজ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন, জেলার চারটি উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসারবৃন্দ, UNICEF-এর ডিস্ট্রিক্ট কনসালট্যান্ট, BRAC ও বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের প্রতিনিধিবৃন্দ, সিনিয়র স্টাফ নার্স, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. পল্লব কুমার দেবনাথ, মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ।

সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব ভূমিকা নিয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদান করেন ডা. আজিজুল হক তানজিল। তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবনরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আলোচনা সভায় কিশোরগঞ্জ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের বিস্তার রোধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে সদর উপজেলার মুকসেদপুর ইউনিয়নে BRAC Health Programme-এর উদ্যোগে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পে আগত সাধারণ মানুষের ওজন, উচ্চতা, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং চক্ষু পরীক্ষা করা হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


পাকুন্দিয়ায় পঁচা গরুর মাংস বিক্রি: ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও জরিমানা, জব্দ ১১৫ কেজি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় পঁচা গরুর মাংস বিক্রি: ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও জরিমানা, জব্দ ১১৫ কেজি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পঁচা গরুর মাংস বিক্রির দায়ে এক মাংস ব্যবসায়ীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তার দোকান থেকে প্রায় ১১৫ কেজি পঁচা গরুর মাংস জব্দ করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন বিজয় (২৬), তিনি উপজেলার সৈয়দগাঁও এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর এলাকার সৈয়দগাঁও চৌরাস্তা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান

অভিযান চলাকালে বিজয়ের মালিকানাধীন ‘বিজয় গোস্ত বিতান’ নামক দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পঁচা ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর গরুর মাংস পাওয়া যায়। পরে ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলী আকবর এবং ডা. তামান্না দিলশাদ রিমি। এছাড়া পাকুন্দিয়া থানার এসআই মো. সৈলিম হোসাইন-এর নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও ভেজাল খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

ভৈরবে যৌথ অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ তিন মাদক কারবারি ইয়াবা ও হেরোইনসহ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে যৌথ অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ তিন মাদক কারবারি ইয়াবা ও হেরোইনসহ আটক

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ মাদকবিরোধী অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটি এলাকার পুকুরপাড়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

আটককৃতরা হলেন— পুকুরপাড় এলাকার মাদক কারবারি মুজিবুর মিয়া, তার স্ত্রী মাফিয়া বেগম এবং একই এলাকার রুবিনা বেগম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মুজিবুর মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ঘর থেকে ১১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১১ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ সময় মুজিবুর মিয়া ও তার স্ত্রী মাফিয়া বেগমকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে একই এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে রুবিনা বেগমের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১০৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয় এবং তাকেও আটক করা হয়।

অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলে প্রত্যেককে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া রুবিনা বেগমকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচ এম আজিমুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন এবং ভৈরব কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সূর।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভৈরব এলাকায় মাদক নির্মূল করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলে ‘মাইক্রো স্কিল প্যাকেজ মেলা–২০২৬’ অনুষ্ঠিত

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলে ‘মাইক্রো স্কিল প্যাকেজ মেলা–২০২৬’ অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির লক্ষ্যে ‘মাইক্রো স্কিল প্যাকেজ মেলা–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং UNICEF-এর যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতায় আয়োজিত এ মেলা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ‘মাইক্রো স্কিল’ হলো এমন কিছু ছোট ছোট রূপান্তরযোগ্য দক্ষতার সমষ্টি, যা কিশোর-কিশোরীদের বাস্তব জীবনে সমস্যা সমাধান, সৃজনশীল চিন্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার। তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি নানান উদ্ভাবনী প্রকল্প, হস্তশিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প ও শিল্পকর্ম প্রদর্শন করে। এসব প্রদর্শনীর মধ্যে ছিল হাতে তৈরি কারুশিল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক ছোট প্রকল্প, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগযোগ্য নানা উদ্ভাবনী ধারণা।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের এমন সৃষ্টিশীল উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে তাদের মাঝে আর্থিক পুরস্কার বিতরণ করেন।

এ সময় তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৃজনশীল আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত এ ধরনের মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান।

মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উরুবান আতরাবা তামান্না। এছাড়াও পুলিশ লাইন্স সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিনিয়র কর্মকর্তা, স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।

মেলায় আগত অতিথিরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি তাদের প্রকল্প ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যাতে তারা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।