বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সহজ করতে মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খোলার উদ্যোগ

অর্থনীতি ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সহজ করতে মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খোলার উদ্যোগ
মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রবাসী আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানো সহজ করা এবং ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ানো এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, ‘প্রবাসী আয় যাতে বৈধ পথে দেশে আসে, সে জন্য মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খোলার চেষ্টা করছি।’

তিনি জানান, এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এখন মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে সম্প্রতি মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপনের সম্ভাবনা এবং প্রবাসীদের আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা জানান, ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বাংলাদেশের কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এরই মধ্যে মালদ্বীপে শাখা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের কয়েকটি ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের জন্য এটিকে কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালু হলে প্রবাসীরা সহজে ব্যাংকিং সেবা পাবেন এবং অনুমোদিত চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠানো আরও সুবিধাজনক হবে। তবে এ জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক প্রবাসী আয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে মালদ্বীপ থেকে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া এবং অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নানা জটিলতার কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের শাখা স্থাপনের পাশাপাশি মালদ্বীপ থেকে অর্থ পাঠানো সহজ করতে তিনটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৮ অক্টোবর এমএমএর গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান দুই দেশের মুদ্রা কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিরাপদ, দক্ষ, স্বচ্ছ ও কম ব্যয়ের রেমিট্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা চেয়েছেন।

প্রথম প্রস্তাবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আওতায় উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে বাংলাদেশে উপকারভোগীরা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকায় সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে মালদ্বীপের লাইসেন্সধারী ব্যাংক ও অর্থ স্থানান্তরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত যোগ্য পরিশোধ রুফিয়ায় করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো টাকাভিত্তিক কার্ড ইস্যু করবে এবং দুই দেশের সমন্বিত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় লেনদেনের নিষ্পত্তি হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময় বা কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের উপার্জিত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা আরও সহজ হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন দুই দেশের আইন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও মালদ্বীপে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধিদল গঠন করে এমএমএর সঙ্গে বৈঠক করার প্রস্তুতিও রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সম্ভাব্য ওই বৈঠকে নিয়ন্ত্রক শর্ত, পরিচালনাগত ব্যবস্থা ও অর্থ নিষ্পত্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।

মালদ্বীপে বর্তমানে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে দুই লাখের বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা এক লাখের বেশি।

বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী থাকা সত্ত্বেও মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া সরাসরি গ্রহণে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সমস্যায় পড়ছেন। ফলে অনেককে অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে প্রথমে মার্কিন ডলার কিনে পরে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠাতে হয়। এর সঙ্গে উচ্চ কমিশন যুক্ত হওয়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচও বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব জটিলতা বৈধ চ্যানেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে এবং হুন্ডিসহ অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। এতে দেশের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সীমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালু এবং প্রস্তাবিত মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক মুদ্রাবাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রবাসীরা আরও সহজে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের লক্ষ্য প্রবাসী আয় স্থানান্তরকে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল করা এবং বৈধ চ্যানেলে দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ানো। তবে উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির সাড়া, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করবে।

পাগলেও বিশ্বাস করবে না’, তবে ভালো মানুষের অন্তরে কি বিশ্বাস জাগে না?

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
পাগলেও বিশ্বাস করবে না’, তবে ভালো মানুষের অন্তরে কি বিশ্বাস জাগে না?

রাজনীতিতে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এক পক্ষ অভিযোগ তোলে, অন্য পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু কোনো বক্তব্য যতই দৃঢ় হোক, বাস্তবতার সামনে তার ব্যাখ্যা দেওয়ার দায় এড়ানো যায় না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে কিশোরগঞ্জে ছাত্রলীগের কমিটিতে এক জামায়াত নেতার ছেলের পদ পাওয়ার ঘটনা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার ফেসবুকে প্রকাশিত ওই কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নাম রয়েছে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সিরাজ উদ্দিনের ছেলে আলী আকবর তানভীরের। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

সিরাজ উদ্দিনের দাবি, ছেলের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তানভীর কয়েক মাস ধরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। কমিটি প্রকাশের পর ছেলের সঙ্গে কথা হলে তিনি পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন সিরাজ উদ্দিন। তবে পদত্যাগের কোনো প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। এমনকি ছেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের নম্বরও তিনি দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানভীরের নামে প্রচারিত বক্তব্যে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠন করার সাংবিধানিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। বাবার বক্তব্যের সঙ্গে ছেলের নামে প্রচারিত এই বক্তব্যের পার্থক্যই বিষয়টিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

এখানে কয়েকটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। তানভীরের নাম ছাত্রলীগের জেলা কমিটিতে এল কারণ তিনি অবশ্যই আগে থেকেই সংগঠনটির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কমিটিতে তাঁর পদ পাওয়ার পেছনে তার মত অবশ্যই ছিলো। আর পদত্যাগের যে কথা বলা হচ্ছে, তার বাস্তব কোন ভিত্তি নাই।

কিশোরগঞ্জের এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। ২২ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী একাকার হয়ে গেছে- এমন অভিযোগ বাংলাদেশের কোনো পাগলও বিশ্বাস করবে না।

বক্তব্যটি ছিল অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক প্রত্যাখ্যান। কিন্তু কোনো অভিযোগকে অবিশ্বাস্য বলে উড়িয়ে দিলেই কি সংশ্লিষ্ট সব প্রশ্নের অবসান ঘটে? বিশেষ করে, যে কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতার ছেলের ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পাওয়ার ঘটনা আলোচনায় এসেছে, সেই জেলাতেই এমন বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের অবকাশ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছে। গত ২০ অক্টোবর রাজশাহীর এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা, পলাতক স্বৈরাচারের অর্থায়ন এবং নির্বাচনের আগে টিকিট বিক্রির চেষ্টায় কয়েকটি দলের সম্পৃক্ততা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা বলেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত ছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের প্রমাণ থাকার দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক নিয়ে জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর আগে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের একই সঙ্গে আন্দোলন করার প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেছিলেন।

অর্থাৎ, বিএনপি অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে যোগসাজশের অভিযোগ করছে। জামায়াত সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের এই পাল্টাপাল্টির মধ্যে কিশোরগঞ্জের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের মানদণ্ড সবার জন্য এক হওয়া প্রয়োজন। প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দাবি করা হলে নিজেদের ঘিরে ওঠা প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে। কোনো অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে, আবার কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা অস্পষ্ট থাকলে তা নিয়ে জনমনে সন্দেহও তৈরি হতে পারে। সন্দেহ আর প্রমাণ এক বিষয় নয়- এই পার্থক্য মাথায় রেখেই বিতর্কের বিচার করা জরুরি।

কিশোরগঞ্জের ঘটনায় জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বের অবস্থান যেমন স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, তেমনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত। আলী আকবর তানভীর কীভাবে ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পেলেন, তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কতটুকু এবং পদত্যাগের দাবি বাস্তবে কার্যকর হয়েছে কি না- এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তরই পারে বিতর্কের অবসান ঘটাতে।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শুধু একজনের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা একটি কমিটিতে পদ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য, অবস্থান ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে, সেই প্রশ্নও সামনে আনে। ‘পাগলেও বিশ্বাস করবে না’- এমন দৃঢ় বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক থামানোর চেষ্টা করা যেতে পারে, কিন্তু জনমনে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে প্রয়োজন তথ্য, প্রমাণ ও স্বচ্ছতা।

কিশোরগঞ্জের মানুষও নিশ্চয়ই জানতে চাইবে, আলোচিত এই ঘটনার প্রকৃত সত্য কী। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন অনুচিত, তেমনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সবকিছুকে অবিশ্বাস্য বলে উড়িয়ে দেওয়াও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না।

দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১২০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১২০৭

হাম ও হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম ও হাম উপসর্গে মোট ১ হাজার ২০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৯৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০ জনে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৬ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২৪৮ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬০৮ জন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৭ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৩ জনে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ২০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অবৈধ মোবাইল ফোনে বছরে ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
অবৈধ মোবাইল ফোনে বছরে ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অবৈধভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান ও অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে বছরে সরকারের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ লক্ষ্যে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ, নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ ও ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করার পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রেও এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রমগুলো চালু করা হবে। তবে এ পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আন্তর্জাতিক মোবাইল যন্ত্রের পরিচিতি নম্বর (আইএমইআই) ব্যবস্থাটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ পর্যায়ে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে। এসব হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগও নেওয়া হবে। তবে প্রথম ধাপে নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় এ কার্যক্রম কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের পরিচয় শনাক্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিটিআরসির কমিশন সভায় সংস্থাটির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থাটি চালু করা হলেও তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো চালু করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থাটি চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তাগিদ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় এনবিআর। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।

২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব মোবাইল নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থাটি চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তি এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হ্যান্ডসেট বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।